পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বরাবরই তার ছবির শিল্পী ও গল্প নির্বাচনে আলাদা একটা চমক রাখেন। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। মুক্তির দিক দিয়ে তার পরিচালিত সর্বশেষ সিনেমা ‘ডুব’-এ অভিনয় করেছিলেন বলিউড অভিনেতা ইরফান খান। তারই ধারাবাহিকতায় গত মার্চে মুম্বাই গিয়েছিলেন পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তখনই নতুন ছবির অভিনেতা হিসেবে চুক্তিবদ্ধ করিয়ে নেন বলিউড অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকিকে। টুইটারে এই সিনেমায় অভিনয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওয়াজউদ্দিন নিজেই। শুধু অভিনয় নয়, ছবির প্রযোজক হিসেবেও থাকছেন বলিউডের এই অভিনেতা। ফারুকীর নতুন এই ছবির কয়েকজন প্রযোজকের একজন অভিনয়শিল্পী নুসরাত ইমরোজ তিশা। এই ছবির মাধ্যমে দেশের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটতে যাচ্ছে। সে হিসেবে বলা চলে, ফারুকী ও তিশার সিনেমার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে অভিষেক ঘটবে এই বলিউড অভিনেতার।
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী গণমাধ্যমকে জানান, এটি তার পরিচালনায় নির্মিত প্রথম ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্র। এ বছরের শেষ দিকে ছবিটির শ্যুটিং শুরু করবেন তিনি। এই ছবির বেশির ভাগ শ্যুটিং হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এবং বাকি অংশের শ্যুটিং হবে ভারত, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ায়। পৃথিবীতে চলমান অভিবাসন এবং এই ইস্যু ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক যে ঘটনা, সেসবের অনুপ্রেরণায় ছবিটি তৈরি হবে। ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করবেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দুজন অভিনেতা। শিগগিরই তাদের নাম জানানো হবে। ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি উর্দু, হিন্দি এবং বাংলায় সংলাপ থাকবে ছবিতে।
ফারুকীর চলচ্চিত্রে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি জানান, সিনেমার চিত্রনাট্য পড়ার পর থেকেই এটি তার মনে গেঁথে যায়। শক্তিশালী রসবোধ, ব্যঙ্গ-বিদ্রপ এবং আবেগের মধ্য দিয়ে আজকের যুগের এক অদ্ভুত পৃথিবীকে আবিষ্কার করেছে এই চিত্রনাট্য। তার মতে, কিছু সিনেমা আছে, যেগুলো অবশ্যই নির্মাণ করা উচিত। তাই তো একজন অভিনেতার সামর্থ্যরে বাইরেও এই প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য তিনি তার ভেতরের একটা তাগিদ অনুভব করছিলেন।
নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি, তিশা ছাড়াও ছবিটি প্রযোজনা করছেন বাংলাদেশের স্কয়ার গ্রুপের অঞ্জন চৌধুরী ও মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’ ছবিটি ২০১৪ সালে বুসান চলচ্চিত্র উৎসবে এশিয়ান প্রজেক্ট মার্কেটে নির্বাচিত হয়। একই বছরের নভেম্বরে ভারতের এনএফডিসি আয়োজিত ফিল্ম বাজারে শ্রেষ্ঠ প্রজেক্টের পুরস্কার, মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা এবং এশিয়া প্যাসিফিক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডের যৌথ উদ্যোগে দেওয়া অ্যাপসা ফিল্ম তহবিল লাভ করে। প্রতি বছর এশিয়ার দুটি চলচ্চিত্রকে এই ফিল্ম ফান্ডের জন্য নির্বাচিত করা হয়।
