পার্বত্য চট্টগ্রাম অনেকবার সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। কখনো পক্ষ-বিপক্ষের লড়াই, রাজনৈতিক সহিংসতা, পাহাড়ধস, দরিদ্রতা এই বিভাগকে আলোচনায় এনেছে। খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান তিন জেলা নিয়ে এই বিভাগের রূপ, সৌন্দর্যও আমাদের চোখ টানে। পাহাড়ের আদিবাসী মানুষের সরলতা, প্রাচীন ঐতিহ্যের অংশ হস্তশিল্পও আলোচনার শিরোনাম হয়। এই জেলাগুলোর প্রাকৃতিক সুধার অন্যতম ‘পাখি’। এই তিন জেলার পাখিদের ছবি তুলেছেন দুজন একজন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা ‘সবুজ চাকমা’। অন্যজন খাগড়াছড়ির সাংবাদিক ‘সমীর মল্লিক’। দুই তরুণের তোলা ৪২টি বাছাই করা পাখির ছবি নিয়ে ২৯ মার্চ শুক্রবার শহরের হর্টিকালচার পার্কে বসেছিল পাখির মেলা। নাম ‘সেভ দ্য বার্ডস অব হিল’ (পাহাড়ের পাখিগুলোকে বাঁচান)। তাতে সবাই বলেছেন পাখি খাব না, শিকারও করতে দেব না। সবুজ ও সমীর বললেন, ‘এককালে এই তিন জেলার অসংখ্য পাহাড়ের হৃৎপিণ্ড সবুজে ঘেরা ছিল। সেগুলো ছিল সত্যিকারের বন। তাতে বন্যপ্রাণী, পাখিরা নিরাপদে ছিল। এখন মানুষ পাহাড় কাটছে, বন উজাড় করছে, গাছ কেটে নানা কাজে ব্যবহার করছে। ফলে পাহাড়গুলো থেকে পাখিদের কলতান, তাদের সংসার হারিয়ে যাচ্ছে। অন্য বন্যপ্রাণীরাও বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। পাখি শিকার করা হচ্ছে, অনেকে না জেনে, অসচেতন ও অন্যায়ভাবে পাখি ধরে খাচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকায় কয়েক প্রজাতির পাখি তো চিরকালের মতো হারিয়ে যাওয়ার পথে। এই পাহাড়ি জনপদে পাহাড় ও বন ধ্বংসের বিপক্ষে আমাদের এই উদ্যোগ ও সচেতনতা।’
৩০ মার্চ সারা দিন এই পাখির ছবির মেলা চলেছে। ছিল ‘কালামাথা কাবাসি’, ‘তিতির’, ‘বেগুনি কোমর মৌটুসী’, ‘লালপিঠ ফুলঝুড়ি’, ‘চখাচখি’, ‘হলদে পা হরিয়াল’, ‘শামুকখোল’, ‘ধুমকল’, ‘পাহাড়ি ময়না’, ‘ধবল পেট মুনিয়া’, ‘নীল গলা বসন্ত’, ‘পাহাড়ি নীলকান্ত’, ‘খয়রা লাটোরা’, ‘উদয়ী ধলাচোখ’, ‘পাহাড়ি নীলকণ্ঠ’, ‘সেকরা বসন্ত’, ‘ইউরেশিয়া ঘাড়ব্যথাসহ’সহ হরেক পাখির ছবি। এবারই প্রথম হলো এই আয়োজন। তাতে হাজির খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ নাজমুস শোয়েব বলেছেন, ‘প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্যের অতি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ এই পাখিদের এ জেলাগুলোতে অবাধ ও দারুণ বিচরণ থাকলেও অবিবেচনায় তারা মরে যাচ্ছে। তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসা মানুষের কর্তব্য।’
