অস্ত্র মামলায় আটক ছয় ছাত্রলীগকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং ওসি বেলালের প্রত্যাহারের দাবিতে রবিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছাত্রধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে শাখা ছাত্রলীগের একপক্ষ।
অবরোধের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটলট্রেন, ক্লাস-পরীক্ষা, দোকানপাটসহ সকল যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তারা। এ আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন থাকবে বলে জানিয়েছেন শাখা ছাত্রলীগের অন্যপক্ষ।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক ও বিজয় গ্রুপের নেতা মো. মাহফুজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, একদিনের সামান্য ঘটনায় মিথ্যা অস্ত্র মামলায় আটক আমাদের কর্মীদের মুক্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী এবং হাটহাজারী মডেল থানার ওসি বেলালের প্রত্যাহারের দাবিতে রোববার থেকে আমরা ছাত্র ধর্মঘট পালন করবো। আমাদের ভাইদের মুক্তি, ওসি ও প্রক্টরের প্রত্যাহার এবং ২০১৫ সাল থেকে আজ পর্যন্ত চবি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে যতগুলো মামলা হয়েছে সবগুলো প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে।
জানা যায়, ফেসবুকে এক গ্রুপের নাম নিয়ে অন্য গ্রুপ বাজে মন্তব্য করাকে কেন্দ্র গত ৩১ মার্চ থেকে তিন দিনব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষ ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দেয় শাখা ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক গ্রুপ সিএফসি ও বিজয় গ্রুপের কর্মীরা।
এতে তিনদিনে ছাত্রলীগের ২০ নেতাকর্মী আহত হয়। এসব ঘটনায় গত সোমবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের পাঁচটি আবাসিক হলে তল্লাশি চালিয়ে দু’টি পাইপগান ও ১২৮ রাউন্ড গুলিসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।
পরে গ্রুপ দুটি গত মঙ্গলবার ফের সংঘর্ষে জড়ালে সংঘর্ষ চলাকালীন ৬ ছাত্রলীগকর্মীকে আটক করেন । তাদের বিরুদ্ধে দেশীয় অস্ত্র মামলায় কোর্টে চালান দেয় চট্টগ্রামের হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ।
এদের মধ্যে চবি আইন বিভাগের ছাত্র খালেদ মাসুদ, একই বিভাগের শাকিল হাসান, সমাজতত্ত্ব বিভাগের সিফাত উল্লাহ সরকার শাখা ছাত্রলীগের সিএফসি গ্রুপের কর্মী।
এছাড়া ইংরেজি বিভাগের বেলাল হাসান, ইতিহাস বিভাগের অমিত রয় এবং উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের ইয়াসিন আরাফাত শাখা ছাত্রলীগের বিজয় গ্রুপের কর্মী। এছাড়া এরা সবাই শিক্ষা উপমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।
এ বিষয়ে সিএফসি গ্রুপের নেতা মির্জা কবির সাদাফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওসি বেলালের নেতৃত্বে আমাদের ছাত্রলীগের ৬ কর্মীকে শুধু শুধু গ্রেপ্তার করে মামলা দেওয়া হয়েছে। তাদের হাতে অস্ত্র না থাকলেও তাদের অস্ত্র মামলায় চালান করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের ভাইদের মুক্তির দাবিতে এবং ওসি বেলালকে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। এই দাবিতে রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস অবরোধ থাকবে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটলট্রেন, ক্লাস-পরীক্ষা, দোকানপাটসহ সকল যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে। এছাড়া রোববার থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।
এদিকে আন্দোলনে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ না থাকলেও আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন থাকবে জানিয়ে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দিনের অনুসারী চবি ছাত্রলীগের অরেকপক্ষের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি মুনসুর আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই আন্দোলনে আমাদের নৈতিক সমর্থন থাকবে।
এ সব বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, আমি এসব বিষয়ে জানি না। তারা টানা সংঘর্ষে জড়িয়ে ছিল। মারামারি, অস্ত্রের মহড়া দেওয়ার সময় আমরা ওই ছয় জনকে হাতেনাতে আটক করেছি।
