খালেদার প্যারোলে আগ্রহী আ.লীগ, বিএনপি চুপ

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ০২:২০ এএম

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার গুঞ্জন চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। তবে তার দলের নেতারা এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে কোনো কথাই বলছেন না। তারা বলছেন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার কথা। সেই চিকিৎসা তিনি প্যারোলে মুক্ত হয়ে দেশেই করাবেন, না বিদেশে করাবেন সে সিদ্ধান্ত খালেদা জিয়ার ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন তারা। এদিকে আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশাপাশি সরকারের মন্ত্রীরাও তার প্যারোলে মুক্তির বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যেই কথা বলছেন। ধারণা করা হচ্ছে, চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে প্যারোলের আবেদন করলেই মুক্তি মিলবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার।

গতকাল শনিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে এখনো কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি। সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে আবেদন করা হলে তার মুক্তির বিষয়ে সরকার চিন্তা করবে। 

আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় লড়াই করে অথবা পূর্ণ সাজা খেটেই মুক্ত হতে হবে খালেদা জিয়াকে। এর বাইরে খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করার রাজনৈতিক কোনো দেনদরবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে হবে না। তবে তারা এও জানান, বিএনপির নেতৃত্ব থেকে খালেদা জিয়া সরে দাঁড়াবেন এমন চুক্তিপত্র হলেই কেবল তার মুক্তির ব্যাপারে ইতিবাচক হতে পারেন ক্ষমতাসীনরা। তাতে লাভবান হতে পারে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দুই নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, খালেদা জিয়াকে প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিতে হবে রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়ার। অন্যথায় সাজা খেটেই কারামুক্ত হতে হবে তাকে।

আওয়ামী লীগের তিনজন কেন্দ্রীয় নেতা দেশ রূপান্তরকে জানান, বিএনপির নেতৃত্বে জিয়া পরিবারের বাইরের কাউকে চায় ক্ষমতাসীন দল। এরই অংশ হিসেবে তারা চাইছেন খালেদা জিয়া রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে বিদেশ চলে যাক। জিয়া পরিবারের আরেক সদস্য তারেক রহমান ফেরারি আসামি। তার দেশে আসা বা রাজনীতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সময়সাপেক্ষ। ওই নেতারা বলেন, আপাতত খালেদা জিয়ার বিএনপি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা এলেই জিয়া পরিবারের হাত থেকে রাজনীতিও দূরে সরে যাবে। বিএনপির একটি অংশও এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে থাকবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, খালেদা জিয়ার সাজা হয়েছে, তিনি জেলে আছেন আইনিভাবে। তাকে এখন মুক্ত হতে হলে বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্দোষ প্রমাণ হতে হবে। অথবা সাজা শেষ হলে তিনি মুক্ত হবেন। রাজনৈতিক আলোচনায় তার মুক্তির কোনো সম্ভাবনাই নেই। আওয়ামী লীগ সে পথে কেন যাবেÑ এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, সেটা দলের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। দলের সভাপতিমন্ডলীর এই সদস্য বলেন, খালেদার মুক্তির ব্যাপারে কোনো চাপে তো সরকার নেই। তাহলে আওয়ামী লীগ কেন শুধু শুধু খালেদার মুক্তির সুযোগ তৈরি করে দেবে। প্যারোলে মুক্তির একটি রাস্তা তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে শর্ত থাকবে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির তিনটি উপায় আছে। একটি উচ্চ আদালতে আপিল করে নির্দোষ প্রমাণ হওয়া, রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়া অথবা পূর্ণ সাজা ভোগ করে মুক্ত হওয়া। তিনি বলেন, এর বাইরে কোনো পথ নেই খালেদার কারামুক্তির। 

আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, খালেদা জিয়া কোথায় আছেন জেলে? না বাইরে? সেটাই তো মানুষ ভুলে গেছে। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে জনগণের মতো আমাদেরও কোনো আগ্রহ নেই। কারণ খালেদা জিয়া তো সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তার মুক্ত হওয়া বা জেলে থাকা সম্পূর্ণ আইনি বিষয়। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক নেই।

ক্ষমতাসীন দলটির সম্পাদকম-লীর দুই সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়া পরিবারের হাতে রাজনীতি বা রাষ্ট্রক্ষমতা কোনোভাবেই নিরাপদ নয় মনে করে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে জিয়া পরিবারের বাইরের বিএনপিকে দেশের ও রাজনীতির জন্য ক্ষতিকর মনে করেন না ক্ষমতাসীনরা। এমন পরিস্থিতিতে জিয়া পরিবারের হাত থেকে বিএনপির নেতৃত্ব বের করার ‘রাজনৈতিক কৌশলে’ আওয়ামী লীগ সফল না হলে রাজনীতিতে ‘নতুন শক্তির’ উত্থান হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন সম্পাদকম-লীর ওই দুই সদস্য।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ওই তিন নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, নতুন রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব ঘটলেও মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু এসব ধারণ করেই আসতে হবে। এটা একটি মিশেল সংগঠনও হতে পারে। আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের এক সদস্য বলেন, বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার সঙ্গে এই আলোচনা চলছে। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত