তালতলী উপজেলার ছোটবগি পিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদের গ্রেড বিম ভেঙে মানসুরা (৮) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকের এ ঘটনায় একই শ্রেণির আরও পাঁচজন আহত হয়। মানসুরা উপজেলার পচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের গেন্ডামারা গ্রামের নজির হোসেন তালুকদারের মেয়ে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাকেরিন জাহান বলেন, ‘তিন কক্ষের একতলা বিদ্যালয় ভবনটি ২০০২ সালে নির্মাণ করা হয়। বরগুনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান তালুকদারের ভাগনে সেতু এন্টারপ্রাইজের মালিক আবদুল্লাহ আল মামুন ভবনটি নির্মাণ করেন। নির্মাণের এক বছরের মধ্যেই গ্রেড বিমে ফাটল ধরেছিল। শনিবার ক্লাস চলাকালে হঠাৎ ভবনের ওপরের গ্রেড বিমের অংশ শিক্ষার্থীদের গায়ের ওপর খসে পড়ে। এ সময় আহত মানসুরাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়। দুর্ঘটনায় রুমা আক্তার, সাদিয়া, রোজমা, শাহিন ও ইসমাইল হোসেন নামে আরও পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি।’
স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতু এন্টারপ্রাইজের মালিক মামুন সাবেক এমপির ভাগনে হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে নি¤œমানের সামগ্রী দিয়ে ভবনটি নির্মাণ করেন। এ সময় প্রতিবাদ করলেও তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি।’
জাকির হোসেন চুন্নু নামে এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভবনটিতে ফাটলের পর থেকেই স্কুল কর্র্তৃপক্ষকে বারবার বলার পরও তারা কোনো উদ্যোগ নেয়নি।’ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রুমা ও সাদিয়া বলে, ‘ক্লাস চলাকালে কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাথার ওপর ভবন ধসে পড়ে। তখন সবাই আতঙ্কিত হয়ে যাই।’ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বিকেল ৪টার দিকে আহতদের দেখতে যান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এম এম মিজানুর রহমান। এ সময় তিনি বলেন, ‘ভবনের ছাদ ধসে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও শিক্ষা সচিবকে জানানো হয়েছে।’ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি নাÑ এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ আমতলী থানার ওসি আবুল বাশার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আহতরা অনেকটা শঙ্কামুক্ত।
