২০১১ সালে বামপন্থিদের সাবেক ঘাঁটি পশ্চিমবঙ্গের দখল নেয় মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। ক্ষমতা দখলের পর মমতা ব্যানার্জিকে নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে, কিন্তু সাম্প্রতিক ভোটের রাজনীতিতে বাংলায় ভারতীয় জনতা পার্টিকে প্রবেশ করতে না দেওয়া নিয়ে মমতার শক্তিশালী পদক্ষেপকে পশ্চিমবঙ্গে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লোকসভায় পশ্চিমবঙ্গের আসন সংখ্যা ৪২। এই রাজ্যে মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশ মুসলিম। ভারতের গরু বেল্টে পরাজয়ের পর বিজেপির লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গে অভিবাসী অনুপ্রবেশ ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে লোকসভার ভোটে সুবিধা নেওয়া। পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি উসকে দেওয়া ছাড়াও নির্বাচনী প্রচারে এই রাজ্যে ব্যাপক উন্নয়ন এবং সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে মমতা ব্যানার্জি ৩০টির বেশি আসনে জয়লাভ করবেন লোকসভা নির্বাচনে। পশ্চিমবঙ্গে সিপিআই(এম) এবং কংগ্রেস বেশ তোড়জোড় করলেও মূল লড়াই হবে বিজেপি বনাম তৃণমূল কংগ্রেস। জনমত জরিপে আরও বলা হচ্ছে, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে এবার ৮-৯টি আসন পেতে পারে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে দুটি আসন পেয়েছিল বিজেপি।
দ্য টেলিগ্রাফের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক দেবাদীপ পুরোহিতের মতে, গত আট বছরে তৃণমূলের ক্ষমতা দেখেছে পশ্চিমবঙ্গের জনগণ। এবারের নির্বাচনে জনগণ বিকল্প চায়। যারা মমতাকে পছন্দ করছে না, তারা বিকল্প পার্টির দিকে ঝুঁকবে নির্বাচনে। আর এক্ষেত্রে বিজেপি তাদের সামনে নতুন বিকল্প হিসেবে দেখা দিয়েছে।
২০০৯ সালে পশ্চিমবঙ্গে ৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিল বিজেপি। ২০১৪ সালে দলটি ওই রাজ্যে পায় ১৭ শতাংশ। এখন ২০১৯ সালের নির্বাচনে যদি তা অন্তত ৩৫ শতাংশে গিয়েও দাঁড়ায়, তাহলে তৃণমূল কংগ্রেসের ভিত নড়ে উঠবে। তবে সবকিছুর বাইরে পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জির বিপরীতে দাঁড়ানোর মতো বিজেপির শক্তিশালী কোনো প্রার্থী নেই। মোদি আর কেন্দ্রীয় বিজেপির শক্তিতে ভর করে পশ্চিমবঙ্গে লড়ছেন স্থানীয় বিজেপি নেতারা।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়ভার্গিয়া বলেন, ‘সাম্প্রতিক পঞ্চায়েত নির্বাচনে পুলিশের সামনেই ভোট জালিয়াতি হয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনকে এ সম্পর্কিত ভিডিও জমা দিয়েছি। ২০১৬ সাল থেকে এই রাজ্যে আমাদের ৮৭ কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।’
বিজেপি প্রধান অমিত শাহ আশা করছেন পশ্চিমবঙ্গে ২৩টি আসন তারা পাবেন। কিন্তু আশাবাদ আর ভোটের রাজনীতি এক নয়। পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছর শাসন করা বামপন্থিরা ২০১৬ সালের ভোটেও ৪৪ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। ফলে এবারের নির্বাচনেও ভোটাররা বিকল্প হিসেবে কিছু ভোটও যদি বামপন্থিদের দেয়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির আশা নেই।
