জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বাম জোটের নেতারা অতর্কিত হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার দুপর সোয়া ২ টায় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে মুক্ত জ্ঞানচর্চা, ক্যাম্পাসে মৌলবাদ ঠেকানোসহ নানা স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করছিল বাম জোটের নেতারা। এমন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন উগ্র শিক্ষার্থী তাদের ওপর অতর্কিত হামলা করেন। হামলায় আহত হন বামজোটের ৪ জন নেতা। এ ছাড়া হামলার শিকার হন কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ১৩ তম ব্যাচের ফরহাদ হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী মহানবী (সা) কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কটূক্তি করেন।
এরই প্রতিবাদে রোববার যোহর নামাজের পরেই প্রতিবাদ মিছিল করেন ইসলামি শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
তাদের মিছিল শেষ হওয়ার পরেই বাম জোটের নেতারা মুক্ত জ্ঞানচর্চা, ক্যাম্পাসে মৌলবাদ ঠেকানোসহ নানা স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল শেষে উপাচার্য ভবনের সামনে তারা বক্তব্য দিতে থাকলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলার করা হয়।
এতে আহত হন ছাত্র ইউনিয়নের রুহুল আমিন, তূর্য, ছাত্রফন্টের মুজাহিদ অনীক, ও বেশ কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী। ভিডিও চিত্র ও স্থির চিত্র থেকে দেখা যায়, হামলায় সরাসরি জড়িতরা প্রথমে এসে বাম জোটের নেতাদের শাসাতে থাকেন এবং এখান থেকে চলে যেতে বলেই নাস্তিক নাস্তিক বলে তাদের ওপর হামলা করেন।
হামলা সাথে জড়িতরা হলেন ছাত্রলীগ কর্মী পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১২ তম ব্যাচের তাওসিব মাহবুব সোহান, বাংলা ১১তম ব্যাচের তৌহিদুর রহমান পিয়াস সহ বেশ কয়েকজন।
হামলার বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ইসলামি শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের নেতা ইমরান বলেন, আমরা হামলায় জড়িত ছিলাম না। কারা করছে আমরা জানি না।
হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে হামলার শিকার ছাত্র ইউনিয়নের এক নারীকর্মী বলেন, আমাদের উপর ছাত্রলীগের বেশ কিছু কর্মী হামলা করেছে। এতে আমাদের ৩ জন নেতা কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এছাড়া আমাদের তিনজন নারী শিক্ষার্থীর উপরও হামলা করেছে তারা। হামলার শিকার নারীরা হলেন মৃত্তিকা, তিষা ও ফ্লোরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, হামলাকারী পিয়াস ও সোহান এর আগেও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত ছিল। নানা সময়ে সাংবাদিকের উপরও হামলা করেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ভিডিও ফুটেজ থেকে আমরা তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে একজনকে চিহ্নিত করতে পেরেছি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
