একশ বছর আগে মহাত্মা গান্ধী অল ইন্ডিয়া মুভমেন্ট শুরু করেছিলেন ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে। উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন যুক্তরাজ্যের ক্ষমতায় উনস্টন চার্চিল। ১৯৪০ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের আগ্রাসন থেকে ব্রিটিশ জনগণকে রক্ষা করায় তার অবদানকে বড় করে দেখা হয়। এ জন্য তাকে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ব্রিটন হিসেবেও মনে করা হয়। তবে লেবার পার্টির একজন শীর্ষ রাজনীতিবিদ সম্প্রতি তাকে ‘খলনায়ক’ হিসেবে চিহ্নায়িত করলে তোলপাড় শুরু হয়।
১৯১০ সালে তিনি ওয়েলশ টাউনে ধর্মঘট পালনকারী শ্রমিকদের ওপর হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন সৈন্যদের। সে সময় তিনি ট্রেড বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
দেশের বাইরে বিশেষ করে উপমহাদেশেও চার্চিলের ভূমিকা অবিমিশ্র। তিনি ভারতের স্বাধীনতায় ইচ্ছুক ছিলেন বলে মনে করা হলেও আবার স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবেও তার বিরুদ্ধে সমালোচনা আছে। তবে মহাত্মা গান্ধীকে তিনি পছন্দ করতেন না। রীতিমতো ঘৃণা করতেন তাকে।
দ্য অ্যাটলান্টিক ডটকমের এক কলামে ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ বলেন, গান্ধীকে নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য আর উপহাসও করেছেন চার্চিল। তিনি গান্ধীকে বলেছিলেন, ‘মারাত্মক ক্ষতিকর ধর্মান্ধ’, ‘রাষ্ট্রদ্রোহী সাম্প্রদায়িক আইনজীবী’। এমনকি গান্ধীর নেংটি পরা নিয়েও তিনি উপহাস করতে ছাড়েনি।
চার্চিল এবং গান্ধীর মধ্যে একবারই দেখা হয়েছিল, ১৯০৬ সালের নভেম্বরে। তখন চার্চিল ছিলেন ব্রিটিশ কলোনিসমূহের সেক্রেটারির দায়িত্বে আর গান্ধী ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকার আন্দোলনের একজন মুখপাত্র। সে সময় গান্ধী ছিলেন স্যুট টাই পরিহিত।
তবে ৩০ দশকের শুরুতে যখন লবন করের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হলো, যেটি পুরো বিশ্বে ঝড় তুললো, সেইসঙ্গে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার ঢেউ তুলতে সক্ষম হলো, তখন চার্চিলের চক্ষুশূল হয়ে গেলেন গান্ধী। সে সময় গান্ধীকে এমন আক্রমণ করে বসেছিলেন চার্চিল।
সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের জন্যেও অনেকটা দায়ী চার্চিল। এ দুর্ভিক্ষে ২০ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল। দুর্ভিক্ষপীড়িত অঞ্চলে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী চার্চিল।
