৬০ ভাগ শেয়ারে আটকা বিনিয়োগকারীরা

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ১১:২৬ পিএম

নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে পুঁজিবাজার পরিস্থিতি উন্নতির দাবি করলেও বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা চরমে উঠেছে। ২০১৮ সালের দরপতনের পর চলতি বছরের শুরুতে সাময়িক ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়। তবে ২৪ জানুয়ারির পর থেকেই টানা দরপতন চলছে। এ দরপতনে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৬০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর হারিয়েছে। আর এসব শেয়ারেই আটকা পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এতে তাদের বিনিয়োগ সক্ষমতা কমে গেছে, যা লেনদেনে প্রভাব ফেলছে। ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন নেমে এসেছে তলানিতে।

গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ৩৩০ কোটি টাকার, যা গত সাড়ে তিন মাসে সর্বনি¤œ। ২০১৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর ডিএসইতে ৩৩১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। এরপর গতকাল সর্বনি¤œ লেনদেন হয়। আর পর্যাপ্ত ক্রেতার অভাবে অধিকাংশ শেয়ারের দরপতনে প্রধান মূল্যসূচক নেমে এসেছে ২০১৮ সালের অবস্থানে। গত ১ জানুয়ারি ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ছিল ৫৪৬৫ পয়েন্টে, যা ২৪ জানুয়ারিতে ৫৯৫০ পয়েন্টে উন্নীত হয়। তবে টানা দরপতনের কারণে এ সূচকটি গতকাল ৫৪৩৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, গত ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ডিএসইর সবগুলো খাতের বাজার মূলধন বাড়তে দেখা যায়। এ সময় ব্যাংক, পাট, সাধারণ বীমা, সেবা ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতের শেয়ার দর গড়ে ১০ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। পরবর্তী সময়ে সাধারণ বীমা খাতের শেয়ারদর প্রায় ৩৫ শতাংশ বাড়তে দেখা যায়। তবে গত আড়াই মাসের দরপতনে অধিকাংশ খাতই দর হারিয়েছে। এর মধ্যে বড় মূলধনি কয়েকটি কোম্পানির দরবৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্ট খাতের বাজার মূলধন বাড়লেও অধিকাংশ শেয়ার দর হারিয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ডিএসইর লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৩১৩টি কোম্পানির মধ্যে ১৮৬টি কোম্পানি দর হারিয়েছে। ফলে দর হারানো এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আটকে গেছে। আবার দর বৃদ্ধি পাওয়া যেসব কোম্পানি রয়েছে, সেগুলোতেও কিছু বিনিয়োগ আটকা পড়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সাধারণ বীমা খাতের বাজার মূলধন যখন ৩৫ শতাংশ বাড়ে, সে সময় যেসব বিনিয়োগকারী ওই খাতের শেয়ারে বিনিয়োগ করেছিলেন, তারাও আটকা পড়েছেন। এ খাতের বাজার মূলধন বৃদ্ধির হার ৩৫ শতাংশ থেকে গতকাল ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। ব্যাংক খাতের সম্মিলিত বাজার মূলধন গতকাল পর্যন্ত সামান্য বাড়লেও অধিকাংশ ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে। তালিকাভুক্ত ৩০ ব্যাংকের মধ্যে চলতি বছর ১৯টি দর হারিয়েছে। বস্ত্র খাতের রপ্তানি বৃদ্ধিসহ সরকারের পক্ষ থেকে নানা ধরনের সুবিধা দেওয়ার পরও এ খাতের ৫৩ কোম্পানির মধ্যে ৩৯টিই দর হারিয়েছে। পাট খাতের সবগুলো শেয়ার দর হারিয়েছে। জীবন বীমা খাতের ১২ কোম্পানির মধ্যে ৮টির দর কমেছে। ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতের মধ্যে ১৬টিতে বিনিয়োগ আটকে গেছে। ইস্পাত শিল্পের সাত কোম্পানির মধ্যে ৬টির দরই কমে গেছে। এ ছাড়া বিবিধ খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দর কমেছে।

এদিকে বেশির ভাগ শেয়ারের দর কমলেও বিএটিবিসি, গ্রামীণফোন, স্কয়ার ফার্মা, রেনেটাসহ বাজার মূলধনে শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি কোম্পানির দরবৃদ্ধিতে চলতি বছর ডিএসইর বাজার মূলধন ১৮ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা বেড়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত