প্রাক-বাজেট আলোচনায় এমসিসিআই

ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় সরকারকে নজর দিতে হবে

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ১১:৩০ পিএম

লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করতে বড় প্রতিষ্ঠানের ওপর বাড়তি কর না চাপানোর প্রস্তাব করে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এমসিসিসিআই) বলেছে, বাড়তি কর না চাপিয়ে আওতা বাড়াতে হবে। করযোগ্যদের করের আওতায় আনার পদক্ষেপ নিতে হবে। গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলনকক্ষে আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে আলোচনায় এসব প্রস্তাব দেয় সংগঠনটি।

এমসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি গোলাম মাইনুদ্দিন বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৪ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অতীতে বড় কোম্পানিগুলোকে চাপ দিতে দেখা গেছে। এ ধরনের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এসে এনবিআরকে বিকল্প পথ খুঁজতে হবে।

এমসিসিআইয়ের বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন সংগঠনটির ট্যারিফ, ট্যাক্সেশন কমিটির চেয়ারম্যান আদিব এইচ খান। তিনি করমুক্ত আয়ের সীমা আড়াই লাখ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৪ লাখে করা, ব্যক্তিশ্রেণির সর্বোচ্চ কর হার ৩০ শতাংশ থেকে নামিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ, সিএসআরের পূর্ণাঙ্গ ব্যয়ের ওপর কর রেয়াত, বিনিয়োগ স্কিমে অনুমোদিত বিনিয়োগের হার বাড়ানো, কোম্পানির বিদেশি ভ্রমণ ব্যয়ের সীমা ১ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ২ শতাংশে উন্নীতকরণ, লোকসানি কোম্পানির পরামর্শ সেবায় কর অব্যাহতি ও করপোরেট কর হার কমানোর প্রস্তাব করেন।

সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ও এসিআইয়ের চেয়ারম্যান আনিস-উদ দৌলা বলেন, আয়কর আইনের বেশ কিছু সমস্যা ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে। সাধারণ নিয়মে আয় হলেই কেবল আয়কর দিতে হয়। তবে আমাদের দেশের আইনের কারণে লোকসানি প্রতিষ্ঠানকেও কর দিতে হচ্ছে।

এমসিসিআইয়ের সভাপতি নিহাদ কবিরের পক্ষে সূচনা বক্তব্যে গোলাম মাইনুদ্দিন বলেন, অর্থনীতির ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যা আছে। এগুলো সমাধান করা না হলে আগামী অর্থবছরে ৮ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন ব্যাহত হবে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রবণতা একটি অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, ব্যাংক ব্যবস্থাপনার দিকে সরকারকে নজর দিতে হবে। বর্তমানে সব ব্যাংকই তারল্য সংকটে ভুগছে। এ অবস্থা থেকে ব্যাংকগুলোকে উত্তরণ না ঘটাতে পারলে বড় সমস্যায় পড়তে হবে। তাই এবাবের বাজেটে ব্যাংক খাতের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে।

গোলাম মাইনুদ্দিন বলেন, বিনিয়োগে এখনো অনিশ্চয়তা ও স্থবিরতা রয়েছে, বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত হচ্ছে না। দেশের উৎপাদন খাত এখনো বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা করছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ উৎপাদনকে ব্যাহত করছে। তাই আগামী বাজেটে শিল্প ও কৃষি খাতের অবকাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর জন্য শক্ত নীতির প্যাকেজ থাকতে হবে। বিদ্যুৎ খাতের জন্য উদার বরাদ্দ রাখা উচিত, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।

এনবিআর মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, প্রতি বছরই ব্যবসায়ীদের অভিযোগ থাকে যে, তাদের পরামর্শ বাজেটে প্রতিফলিত হয় না। আমরা এবার এ অভিযোগ থেকে বের হয়ে আসতে চাই। বাজেটে ব্যবসায়ীদের বাস্তবসম্মত প্রস্তাবগুলো রাখতে চেষ্টা করবে এনবিআর। তবে রাজস্ব আহরণের বিষয়টিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, এনবিআরের লক্ষ্য হলো ব্যবসার সুযোগ করে দিয়ে রাজস্ব আহরণ। করপোরেট কর হার কমানোর বিষয়টি সব মহল থেকেই দাবি করা হচ্ছে।

আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি অনেক দেশের চেয়ে আমাদের করপোরেট কর হার কম। তবে আমাদের দেশে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা কম হওয়ায় উচ্চ হারে কর পরিশোধ করতে হয় অধিক সংখ্যক কোম্পানিকে। অন্যান্য দেশে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বেশি হওয়ায় তারা সুযোগ পেয়ে থাকে। যেসব প্রতিষ্ঠান কর অব্যাহতি পাচ্ছে তাদের যেন অগ্রিম আয়কর দিতে না হয় সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানকে অব্যাহতির সনদ দিতে হবে। এছাড়া ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দেওয়া প্রতিষ্ঠান যেন সঠিকভাবে রেয়াত পেতে পারে সে বিষয়টি দেখা হবে।

সভায় এনবিআরের শুল্কনীতির সদস্য ফিরোজ শাহ আলম, ভ্যাটনীতির সদস্য আব্দুল মান্নান সরকার, আয়করনীতির সদস্য কানন কুমার রায়সহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এমসিসিআইয়ের আনিস এ খান, তারেক মোহাম্মদ আলীসহ সংগঠনটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত