হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরছেন আলাউদ্দিন আলী

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ০৮:৩১ পিএম

বরেণ্য সংগীত ব্যক্তিত্ব আলাউদ্দিন আলী দুই মাসেরও বেশি সময় হাসপাতালে থাকার পর বাসায় ফিরছেন। তার শারীরিক অবস্থা এখন উন্নতির দিকে। আলাউদ্দীন আলীর বাসায় ফিরে যাওয়ার খবর জানানোর জন্য গতকাল ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় তার চিকিৎসার বিভিন্ন দিক এবং বাসায় ফিরে যাওয়ার কথা জানান হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী। তিনি জানান, আলাউদ্দীন আলী ফুসফুসের প্রদাহ আর রক্তের সংক্রমণে ভুগছিলেন। এখন এই সমস্যাগুলো আর নেই। তাকে ফিজিওথেরাপি নেওয়ার জন্য মিরপুরে সিআরপিতে পাঠানো হচ্ছে। সেখানে কয়েক দিন তাকে থাকতে হবে। এরপর তিনি বাসায় ফিরে যাবেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের চিকিৎসক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আলাউদ্দীন আলীর স্ত্রী ফারজানা আলাউদ্দীন মিমিসহ অনেকে।

এর আগে গত ২২ জানুয়ারি রাতে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর বাড্ডার বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন আলাউদ্দীন আলী। তাকে দ্রুত রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। এরপর আলাউদ্দীন আলীর দীর্ঘ চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে তার পাশে দাঁড়ান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আলাউদ্দীন আলীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি তার পরিবারকে সহযোগিতা করার জন্য আর্থিক অনুদান হিসেবে ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দিয়েছেন। পাশাপাশি হাসপাতাল থেকেও সহায়তা করা হয়েছে।

আলাউদ্দীন আলী একাধারে সংগীত পরিচালক, সুরকার, বেহালাবাদক ও গীতিকার। গুণী এই মানুষটির জন্ম ১৯৫২ সালের ২৪ ডিসেম্বর মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরের টঙ্গিবাড়ী থানার বাঁশবাড়ি গ্রামে। তার বাবা জাদব আলী। মায়ের নাম জোহরা খাতুন। দেড় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে ঢাকার মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে চলে আসেন আলাউদ্দীন আলী। তিন ভাই, দুই বোনের সঙ্গে সেই কলোনিতেই বড় হতে থাকেন এই গুণী শিল্পী। সংগীতে প্রথম হাতেখড়ি ছোট চাচা সাদেক আলীর কাছে। পরে ১৯৬৮ সালে যন্ত্রশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রজগতে পা রাখেন। শুরুটা শহীদ আলতাফ মাহমুদের সহযোগী হিসেবে, পরে প্রখ্যাত সুরকার আনোয়ার পারভেজের সঙ্গেই কাজ করেন দীর্ঘদিন।

আলাউদ্দীন আলীর উল্লেখযোগ্য কিছু সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে- ‘সুখে থাকো, ও আমার নন্দিনী হয়ে কারও ঘরনি’, ‘সূর্যোদয়ে তুমি, সূর্যাস্তেও তুমি ও আমার বাংলাদেশ’, ‘বন্ধু তিন দিন তোর বাড়ি গেলাম দেখা পাইলাম না’, ‘যেটুকু সময় তুমি থাকো কাছে, মনে হয় এ দেহে প্রাণ আছে’, ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’, ‘এমনও তো প্রেম হয়, চোখের জলে কথা কয়’, ‘সবাই বলে বয়স বাড়ে, আমি বলি কমে রে’, ‘আমায় গেঁথে দাওনা মাগো একটা পলাশ ফুলের মালা’, ‘আছেন আমার মুক্তার, আছেন আমার ব্যারিস্টার’, ‘শত জনমের স্বপ্ন তুমি আমার জীবনে এলে’, ‘কেউ কোনো দিন আমারে তো কথা দিল না’, ‘পারি না ভুলে যেতে, স্মৃতিরা মালা গেঁথে’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি মাগো’, ‘যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়’, ‘ভালোবাসা যত বড় জীবন তত বড় নয়’ প্রভৃতি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত