রাঙ্গুনিয়ার ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোর মহোৎসব

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ১১:৪৭ পিএম

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ইটভাটার ঘনত্ব মারাত্মক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংরক্ষিত বন, জনবসতি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবেষ্টিত এলাকায় গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলো পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। এলাকাগুলোতে এখন বায়ুদূষণে জনজীবন হুমকির মুখোমুখি। আবার প্রতি বছরই ভাটার সংখ্যা বাড়ছে। আর এসব ইটভাটায় অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ।

জানা গেছে, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটি ইউনিয়ন ছাড়া অন্যান্য সব কটি ইউনিয়ন এলাকায় ইটভাটা রয়েছে। এসব ইউনিয়নের মধ্যে রাজানগর, দক্ষিণ রাজানগর এবং  ইসলামপুর এই তিনটি  ইউনিয়নেই রয়েছে শতাধিক ইটের ভাটা। 

ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইটভাটার মালিক ইকবাল হোসেন মিল্টন জানান, অনেক ইটভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র আছে। তবে কিছু কিছু অনিয়মও রয়েছে।

অভিযোগ পাওয়া যায়, চট্টগ্রামের  রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১৫০ ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে নির্বিঘেœ ব্যবহার করা হচ্ছে কাঠ। মূলত ইটভাটায় অবাধে কাঠ পোড়ানোর কারণে রাঙ্গুনিয়ায় এখন জমে উঠেছে চোরাই জ্বালানি কাঠের রমরমা ব্যবসা। সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে ভাটায় নেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে নিধন হচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সামাজিক বনায়নের বৃক্ষ, আর অন্যদিকে ভাটার কালো ধোঁয়ায় মানুষের স্বাস্থ্যহানি ছাড়াও ফসলের চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। বেপরোয়া বৃক্ষ নিধনে পোমরা, চিরিঙ্গা, কোদালাসহ প্রায় বিটেই সামাজিক বনায়নের বাগানের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে পাহাড় কেটে এবং আবাদি জমির উপরিভাগ কেটে ইট তৈরিতে মাটির জোগান দেওয়া হচ্ছে।

হোসনাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নিশ্চিন্তাপুর গ্রামের দানু মিয়া বলেন, কালো ধোঁয়া ও বনাঞ্চল উজাড়ে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হ্ওয়া ছাড়াও চোরাই জ্বালানি কাঠ পরিবহনে বেপরোয়া গাড়ি চলাচলে রাস্তাঘাটের ক্ষয়ক্ষতিতে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থারও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগীয় কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক শাহ বলেন, ইটভাটায় চোরাই কাঠ পাচার প্রতিরোধে অভিযান চালানো হবে।  

রাঙ্গুনিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রহলাদ চন্দ্র রায় বলেন, ইটভাটায় বন বিভাগের অভিযান চালানোর সুযোগ নেই। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক বনসম্পদ রক্ষার কাজে বনকর্মীরা তৎপর আছেন। 

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, ইটভাটায় মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে অনিয়ম-দুর্নীতির জন্য মালিকদের জরিমানা করা হয়। চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক জানান, বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ইটভাটার প্রমাণ পেলেই কারণ দর্শাও নোটিস দেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত