মাছের পাশাপাশি শুঁটকি সংরক্ষণ ও উৎপাদন গবেষণায় জোর দিচ্ছে সরকার। এর মাধ্যমে দেশের চাহিদা মিটিয়ে শুঁটকি রপ্তানিও সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) ঢাকা ও চট্টগ্রামে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর শুঁটকি মাছ প্রক্রিয়াকরণে একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ কোটি টাকা। ‘বিসিএসআইআর ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর শুঁটকি মাছ প্রক্রিয়াকরণ এবং ইনডোর ফার্মিং গবেষণা সংক্রান্ত সুবিধাদি স্থাপন’ শীর্ষক এ প্রকল্প বিসিএসআইআর ২০২১ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে।
প্রকল্প প্রস্তাবনায় বিসিএসআইআর বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তাপমাত্রা বৃদ্ধি, পানির স্তরের অবনমন, পানিতে অক্সিজেনের অভাব ও দ্রবীভূত অ্যামোনিয়ার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় মাছের আবাস ও প্রজননস্থল কমে যাচ্ছে। এতে রেণু পোনা তৈরির প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে এ দেশে ক্লোজড কনটেইনমেন্ট অ্যাকুয়াকালচার বা ইনডোর ফার্মিং বা আরএসএ চালু সময়োপযোগী। এতে পুকুর বা জলাশয়ের চেয়ে ১০ শতাংশ কম জায়গায় দশগুণ বেশি মাছ উৎপাদন সম্ভব। এ পদ্ধতিতে ৯৫ শতাংশ পানি পুনর্ব্যবহার হয় বলে পানির অপচয়ও কম হয়। ঘরে বা আবদ্ধ কাঠামোয় রপ্তানিমুখী চিংড়ি, কাঁকড়া, কোরালসহ প্রায় সব ধরনের দেশি মাছ চাষ সম্ভব। মানসম্মত ও রাসায়নিকমুক্ত মাছ চাষের অন্যতম বাধা প্রোটিনসমৃদ্ধ ও ভাসমান খাবারের অভাব। মাছের খাবার তৈরিতে ৬২ শতাংশ পর্যন্ত আমিষ প্রয়োজন। কিন্তু দেশের প্রচলিত মাছের খাবারে তা চার ভাগের এক ভাগ থাকে। এ অবস্থায় ফার্মেন্টেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে আলু, ভুট্টাসহ অন্যান্য উপাদান ব্যবহার করে আমিষসমৃদ্ধ অর্গানিক খাবার প্রস্তুত করা যায়। আবার দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচলিত পদ্ধতিতে বছরে ৩-৪ মাস শুঁটকি উৎপাদন হয়। মাছ থেকে শুঁটকি তৈরিতে ৪-৭ দিন সময় লাগে। এতে ব্যবহার হয় লবণ, ডিডিটি ও কীটনাশকসহ নানা উপাদান, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ড্রায়ার ব্যবহার করে একদিনেই মাছ শুকানো যায়। এতে মাছের আমিষ মান ও ওমেগা ফ্যাটি এসিড অক্ষুণœ থাকে। একই সঙ্গে ভ্যাকুয়াম প্যাকেজিং করে শুঁটকি ১২ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, সামাজিক উন্নয়ন ও পুষ্টির চাহিদা মেটাতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য আগামী একনেক প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় বিসিএসআইআর চট্টগ্রাম কেন্দ্রে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। এছাড়া, ক্লোজড কনটেইনমেন্ট অ্যাকুয়াকালচার পদ্ধতিতে কম জায়গায় চিংড়ি, কোরাল মাছ, কাঁকড়া নিয়ে গবেষণা করাসহ মাছ চাষী ও জেলেদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎসাশ্রয়ী শুকনো মাছ তৈরির পদ্ধতি উন্নয়ন, ভাইরাসমুক্ত মাছের পোনা তৈরি, রাসায়নিকমুক্ত ও প্রোটিনসমৃদ্ধ মাছ উৎপাদনে আরএসএসহ বিভিন্ন ইনডোর প্রযুক্তি দেশের আবহাওয়া উপযোগী ও ব্যয়সাশ্রয়ী করার জন্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ভবন ও শেড নির্মাণ, বিভিন্ন ধরনের বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক, আসবাবপত্র সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্টদের দেশে ও বিদেশ উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
