রাজধানীর ডেমরা ডগাইর এলাকার একটি মসজিদ থেকে শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সাত বছর বয়সী শিশুটির নাম মনির হোসেন। শিশুটিকে রবিবার সকালে অপহরণ করে বাবার মোবাইল ফোনে কল করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। তিনি ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়েও ছেলে ফেরত পাননি। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছেলেসহ মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে আটক করা হলেও তাদের পরিচয় জানায়নি পুলিশ। ডেমরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সেলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ডেমরা এলাকার নূরে আয়েশা মসজিদের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ি থেকে সিমেন্টের বস্তায় ভরা অবস্থায় মনিরের লাশ উদ্ধার করা হয়। দুই দিন আগে সন্ত্রাসীরা তাকে অপহরণ করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল।
নিহত মনির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার বিটগর গ্রামের সাইদুল হকের ছেলে। তারা সপরিবারে ডেমরার ডগাইর নতুনপাড়া এলাকার সামসু মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকত।
মনিরের বাবা দেশ রূপান্তরকে বলেন, রবিবার সকাল ৭টায় মনিরুল মাদ্রাসায় যাওয়ার পর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। রাত ৮টার দিকে একটি মোবাইল ফোন নম্বর থেকে কল করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ওই টাকা মসজিদের খাটিয়ার নিচে রাখতে বলেন। রাত ২টার দিকে সাইদুল ভাইকে নিয়ে মসজিদের ইমামের কাছে ১ লাখ টাকা রেখে আসেন। ওই রাতে অপহরণকারীরা টাকা নিতে আসেনি।
পরিদর্শক সেলিম বলেন, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে অপহরণকারীরা মনিরের বাবার মোবাইলে ফোন করে ছেলের লাশের খবর জানায়। পরে পুলিশ ওই মসজিদের দোতলার সিঁড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় শিশুটির মুখ দিয়ে রক্ত ঝরতে দেখা গেছে। তার পরনে ছিল সাদা-নীল রঙের ছাপা পাঞ্জাবি ও ফুল প্যান্ট।
মনির হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সোমবার সন্ধ্যার পরে এলাকার শত শত মানুষ শিশু মনিরুল ইসলাম হত্যায় খুনির ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
এ বিষয়ে ডেমরা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রবিউল সলাম বলেন, মুক্তিপণ না পেয়ে শিশুটিকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।
