জাম্বিয়ার ইউনিভার্সিটি টিচিং হাসপাতালের (ইউটিএইচ) নার্সদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়মুখ ছিলেন এলিজাবেথ বাওয়ালিয়া মুয়েআ। হাসপাতাল থেকে কয়েক বছর আগেই অবসর নিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি জাম্বিয়ার একটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় তাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় ১৯৮৩ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে তিনি পাঁচ হাজারের বেশি নবজাতককে স্রেফ মজা করে অদলবদল করে দিয়েছিলেন।
পত্রিকাটির এমন প্রতিবেদনের পর ওই হাসপাতালে সন্তান জন্ম হয়েছে এমন পিতা-মাতারা রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু তদন্তে বলা হয়, এলিজাবেথ মুয়েআ নামে কোনো নার্স ওই সময় ইউটিএইচে কাজ করতেন না।
দেশটির দ্য জেনারেল নার্সিং কাউন্সিলের ব্যবস্থাপনা কমিটির মুখপাত্র থম উঙ্গানা বলেন, তদন্তে কিছু উঠে না এলেও দোষী নার্স নিজেই স্বীকার করেছেন তার কৃতকর্মের ব্যাপারে। এলিজাবেথ এখন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন। গত সোমবার নিজের দোষ স্বীকার করে এলিজাবেথ বলেন, ‘ঈশ্বর আমাকে আমার পাপের জন্য ক্ষমা করুন। আমি প্রায়ই মজার জন্য নবজাতক শিশুদের অদলবদল করে দিতাম। এখন আমার টার্মিনাল ক্যানসার হয়েছে, আর আমি খুব জলদিই মারা যাব। মারা যাওয়ার আগে তাই নিজের অপরাধ স্বীকার করতে চাই। আমার এখন আর লুকানোর কিছু নেই। ১২ বছর ধরে আমি ইউনিভার্সিটি টিচিং হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে কাজ করেছি। আপনি যদি ১৯৮৩ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে ইউটিএইচ হাসপাতালে জন্মে থাকেন তাহলে বর্তমান পিতা-মাতারা আপনার সত্যিকারের অভিভাবক নয়। আমি দোজখে যেতে চাই না।’
সন্তানের ডিএনএ টেস্টের পর অনেক স্বামী তাদের স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। এজন্যও ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। শয্যাশায়ী ওই বৃদ্ধা নার্স বলেন, ‘আমার এ কৃতকর্মের কারণে বাধ্য হয়ে অনেক মা সেসব শিশুকে বুকের দুধ পান করিয়েছেন, যারা আদৌ তাদের সন্তান না। আমি এ অপরাধের জন্য দোজখে যেতে চাই না। আমি জীবনে যা করেছি তার জন্য সত্যিই আন্তরিকভাবে দুঃখিত। দয়া করে আমাকে মাফ করে দিন।’
