জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ৭টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আখাউড়া-সিলেট সেকশনের মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজ রেললাইনে রুপান্তরকরণ প্রকল্পটিও। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১৮ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৬ হাজার ৬২২ কোটি এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১১ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে গতকাল মঙ্গলবার একনেক বৈঠক শেষে পরিকল্পনমন্ত্রী এম এ মান্নান ব্রিফিংয়ে এসব প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, রেলপথকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। পর্যায়ক্রমে দেশের সব রেলপথকে ব্রডগেজে রূপান্তরের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সাশ্রয়ী এবং নিরাপদ যোগাযোগ মাধ্যম রেল। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ গরিব। তাই রেলপথ উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। আখাউড়া-সিলেট মিটারগেজ রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হচ্ছে। এ জন্য ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের আখাউড়া-সিলেট সেকশনের মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এর বাস্তবায়ন হলে ঢাকা থেকে সিলেট যেতে ট্রেনে সময় লাগবে ৪ ঘণ্টা। এখন সময় লাগে ৮ ঘণ্টা। এছাড়া এখন সিলেট থেকে চট্টগ্রামে যেতে সময় লাগে ১০ ঘণ্টা। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর লাগবে ৬ ঘণ্টা। ১৬ হাজার ১০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে চীন সরকার ঋণ দেবে ১০ হাজার ৬৫৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। বাকি অর্থ বাংলাদেশ সরকার ব্যয় করবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, দেশের সব মিটারগেজ রেললাইন ডুয়েলগেজ করা হবে। এরই অংশ বিশেষ গতকাল বাংলাদেশ রেলওয়ের আখাউড়া-সিলেট সেকশনের মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজ রেললাইনে রূপান্তর প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয় ।
অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছেÑ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প। এতে ব্যয় হবে ২৪৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। চলতি বছর থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে প্রকল্পটি।
এম এ মান্নান বলেন, দেশের সব বাঁকা রাস্তা সোজা করা হবে। এর অংশ বিশেষ মাগুরা-শ্রীপুর জেলা মহাসড়ক বাঁক সরলীকরণসহ সম্প্রসারণ প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ২১৫ কোটি টাকা। চলতি বছর থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৯২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভারতের ঋণ প্রায় ৯১৫ কোটি টাকা। বাকি অর্থায়ন বাংলাদেশ সরকারের। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের জুনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া বিসিএসআইআর ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর শুঁটকি মাছ প্রক্রিয়াকরণ এবং ইনডোর ফার্মিং গবেষণা সংক্রান্ত সুবিধাদি স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ৮৯ কোটি টাকা। চলতি বছর থেকে ২০২২ সালের মার্চে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার ঘুঘুমারী থেকে ফুলুয়ার চর ঘাট ও রাজিবপুর উপজেলা সদর (মেম্বার পাড়া) থেকে মোহনগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন থেকে বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ৪৭৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা। চলতি বছর থেকে ২০২১ সালের জুনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। ব্রিফিংয়ের সময় পরিকল্পনা সচিব নুরুল আমিন, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, আইএমইডি সচিব আবুল মনসুর মো. ফায়জুল্লাহসহ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা।
