চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বন্দরের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেয়। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে করা এক সম্পূরক আবেদনের ওপর গতকাল শুনানি হয়। এ সময় কর্ণফুলীর
তীরে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়ার পর তা বন্ধ করে দেওয়ায় আদালত প্রশ্ন তোলে। আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন এইচআরপিবির সভাপতি আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকার মোহনা থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার এলাকায় কর্ণফুলীর দুই তীর থেকে দুই হাজারের বেশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার কথা রয়েছে জেলা প্রশাসনের। গত ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে নগরীর সদরঘাট থেকে বারিক বিল্ডিং পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীর দুই তীর থেকে ২৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। প্রথম পর্বের ওই উচ্ছেদ অভিযানের পর অভিযান আর শুরু হয়নি। উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ থাকায় গত ৪ এপ্রিল কর্ণফুলী নদী পরিদর্শন শেষে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দেন রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। এরপরই হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি।
আইনজীবী মনজিল মোরসেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কিছু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার পর হঠাৎ করে অভিযান বন্ধ করে দেওয়া হলো। এ নিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলাম। শুনানি শেষে বন্দরের চেয়ারম্যান ও বন্দর কর্তৃপক্ষকে কর্ণফুলী নদীপাড়ে যেসব অবৈধ স্থাপনা রয়েছে সেগুলো উচ্ছেদ করে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’
কর্ণফুলী নদী সংরক্ষণের নির্দেশনা চেয়ে ২০১০ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন এইচআরপিবির সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১৮ জুলাই রুল জারি করা হয়। কর্ণফুলী নদী দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা অপসারণে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট হাইকোর্ট এক রায়ে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর উভয়পাড়ের প্রায় ২ হাজার ১৮১টি অবৈধ স্থাপনা সরানোর নির্দেশ দিয়েছিল। পাশাপাশি ১১টি নির্দেশনা দেওয়া হয় রায়ে।
রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসককে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি জারি করে ৯০ দিনের মধ্যে অবৈধ দখলদারদের অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয় রায়ে। যদি তা না করা হয়, তাহলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসক অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করবেন বলে রায়ে বলা হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় গত বছর ২৫ জুন সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিস পাঠান আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
নোটিসের জবাব না পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়। গত বছর ৩ জুলাই আদালত কর্ণফুলী নদী রক্ষায় উচ্চ আদালতের নির্দেশনার বাস্তবায়ন না করায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করে হাইকোর্ট। এরপরই কর্ণফুলীর দুই তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।
