পাপারাজ্জি কালচার নিয়ে মহা বিরক্ত তারকারা। ঘরের বাইরে, কাজের জায়গায়, জিম, রেস্তোরাঁ, শপিং এমনকি ক্লিনিক পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে তারা। এজন্য নিত্যনতুন পোশাক পরার অহেতুক ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে তারকাদের। তবে হলিউড পাপারাজ্জি এককাঠি বেশি সরেস। তাইতো এদের রীতিমতো আতঙ্ক মনে করেন বিশ^ব্যাপী খ্যাতি পাওয়া অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসন। লিখেছেন অর্পিতা দত্ত
পাপারাজ্জিদের দৌরাত্ম্যে বেসামাল অবস্থা নিয়ে অনেক আগেই বিরক্তি প্রকাশ করেছেন হলিউডের আবেদনময়ী অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসন। সাম্প্রতিক ঘটনায় সেই বিরক্তি রূপান্তরিত হয় ভয়ে। রাস্তায় পাপারাজ্জিদের কবলে একাধিকবার পড়েছেন তিনি। তবে এবারের ঘটনাটি সবকিছু ছাড়িয়ে গেছে। এমনিতে রুপালি পর্দায় ব্ল্যাক উইডো হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি চালিয়ে বেশ পরিচিতি পেয়েছেন বহু পুরুষের কাক্সিক্ষত এই নারী। কিন্তু বাস্তবে সম্প্রতি এক রাতে পাপারাজ্জিদের সামনে পড়ে একটু ভীত হয়ে পড়েন তিনি, জানিয়েছে এনবিসি লস অ্যাঞ্জেলাস। পরে ধীরেসুস্থেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন অ্যাভেঞ্জার্স : এন্ডগেম তারকা। গাড়ি চালাচ্ছিলেন না তিনি। তার সঙ্গে ছিলেন অন্য তিন সহযাত্রী অ্যাভেঞ্জার্স : এন্ডগেমের দুই সহ-অভিনেতা রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, পল রুড ও ক্রিস হেমসওয়ার্থ। এই ঘটনায় সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লস অ্যাঞ্জেলাসের পুলিশ ডিপার্টমেন্টের হলিউড বিভাগের ক্যাপ্টেন স্টিভ লুরি এনবিসিকে জানিয়েছেন, বিপজ্জনকভাবে পাপারাজ্জিরা অনুসরণ করছিল বলে স্কারলেট বিশ^াস করেন। এতে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলেও পুলিশের নথিতে উল্লেখ আছে। লস অ্যাঞ্জেলাসের পুলিশ ডিপার্টমেন্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্কারলেট জোহানসনের নথিতে কারও বিরুদ্ধে কোনো চার্জ আনা হয়নি। স্কারলেট ও তার সঙ্গীরা কিছু সময় অপেক্ষার পর নিরাপদেই বাড়ি ফিরে যান। এ ঘটনা তারা হলিউডি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট স্টেশনে শুধু জানিয়ে রেখেছেন ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ফোর্বস সাময়িকীর সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া হলিউড অভিনেত্রীর মর্যাদা পেয়েছিলেন ৩৪ বছর বয়সী স্কারলেট। ২০১৭ সালের জুন থেকে গত বছরের জুন পর্যন্ত তিনি আয় করেন ৪০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। এই আয় আগের বছরের চেয়ে চার গুণ বেশি।
সড়কে পাপারাজ্জিদের কবলে হরহামেশাই পড়েন হলিউড তারকারা। তাদের পাল্লায় পড়া তারকাদের মধ্যে নব্য সংযোজন স্কারলেট। এর আগে এক আলোকচিত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন জর্জ ক্লুনি। ২০০৭ সালের ঘটনা। মোটরসাইকেলে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন এই অভিনেতা। সে সময় এক আলোকচিত্রী ছবি তুলতে গিয়ে বিরক্ত করছিলেন ক্লুনিকে। ২০১০ সালে পাপারাজ্জির কবলে পড়ে লিন্ডসে লোহানের গাড়ি। এভাবে পাপারাজ্জিদের কবলে পড়েছেন অনেক সেলিব্রিটি। তবে সবচেয়ে বিখ্যাত নজির হিসেবে ধরা হয় ১৯৯৭ সালে প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুকে। প্যারিসে তার মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয় পাপারাজ্জিদের।
এ বিষয়ে লস অ্যাঞ্জেলাস ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিসের উইলিয়াম হগম্যান বলেছিলেন, পাপারাজ্জিদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকে। তাদের তোলা ছবি পরে কিনে নেন অন্যরা। তাই মানসম্মত ছবি তুলতে বদ্ধপরিকর থাকে তারা। এই পেশাদারিত্বই তাদের নিয়ে যায় অপরাধমূলক কর্মকান্ডের দিকে। কিন্তু অপরাধ অপরাধই। তাই বিষয়টি আইনের আওতায় নিয়ে যাওয়া হয়।
