ফেনীর সোনাগাজীতে যৌন নিপীড়নের শিকার মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় করা মামলার তদন্তে কোনো গাফিলতি বা বিচ্যুতি হলে হস্তক্ষেপ করবে হাইকোর্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে আনলে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের বেঞ্চ থেকে এ কথা বলা হয়। আদালত আরও বলে, ‘সাগর-রুনি, মিতু, তনুর মতো নুসরাতের ঘটনাটি হারিয়ে যাক তা আমরা চাই না।’
গত ৬ এপ্রিল সকালে ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গত বুধবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যায় নুসরাত। স্বজনদের অভিযোগ, ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের মামলা করায় তার অনুসারীরা নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়।
গতকাল আইনজীবী সৈয়দ সাইয়্যেদুল হক সুমন ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশনা চাইলে আদালত বলে, ‘আমরা যতটুকু জানি এ মামলা পিবিআইতে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টি তদারকি করছেন। এ পর্যায়ে আমাদের হস্তক্ষেপ করা সমীচীন হবে না। আপনারা খেয়াল রাখবেন, আমরাও খেয়াল রাখছি। তদন্তের কোনো জায়গায় যদি গাফিলতি আছে বলে মনে হয় আপনারা চলে আসবেন, আমরা তখন হস্তক্ষেপ করব।’
আদালত বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরাও সমভাবে ব্যথিত। আমরা চাই না সাগর-রুনি, মিতু, তনুর মতো এ মামলাটিও হারিয়ে যাক।’
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম দুপুরে তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এর চাইতে নির্মম ঘটনা আর হতে পারে না। এ মামলা উচ্চ আদালতে এলে রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।’
