গঙ্গা ও তিস্তার মতো অন্যান্য নদীর পানি বণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১১ সালে ভারতের সঙ্গে ‘ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট অন কো-অপারেশন ফর ডেভেলপমেন্ট’ স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে অন্যান্য নদীর পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে আমাদের দেশের পানি ব্যবস্থাপনা উজানের দেশের ওপর নির্ভরশীল। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করেই জাতির পিতা আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনার জন্য ১৯৭২ সালে ‘যৌথ নদী কমিশনÑজেআরসি’ গঠন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬ সালে ভারতের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরও বাস্তবায়ন করে।’
নদীগুলোকে বাংলাদেশের সম্পদ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘নদীগুলোর পানি পচে এমন দুর্গন্ধ। আমি বেশি দূর যাব না। বুড়িগঙ্গার কথাই বলি...এমন দুর্গন্ধ। কিন্তু এটা কেন হবে। এটা নিয়ে আমরা একটা কমিটি করে দিয়েছি। নদী ও পাড়গুলো উদ্ধার করা এবং সেই সঙ্গে কেউ যেন বর্জ্য ফেলতে না পারে। সেইভাবে সুয়ারেজ সিস্টেমগুলোকে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে পরিশোধিত করে দেওয়া। সেটাও আমরা করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘পানির অপর নাম জীবন। আবার পানি অনেক সময় আমাদের সর্বনাশের পথে নিয়ে যায়। যেটা আমাদের দেশে আমরা দেখি নদীভাঙনে। পানি আমাদের যেন ক্ষতি করতে না পারে, পানি যেন আমাদের আশীর্বাদ হয়। সেভাবে আমাদের সব পরিকল্পনা নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।’
বালুমহাল করা নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সতর্ক করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এজন্য আমি ডিসিদের নির্দেশ দিয়েছি এক জায়গায় বেশি দিন বালুমহাল করা যাবে না। বালুমহালগুলো ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে করতে হবে যাতে করে আমাদের ওই অঞ্চলটা নদীভাঙনের হাত থেকে মুক্তি পেতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘চলতি মেয়াদে ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ পুনঃখনন করে নৌচলাচলের উপযোগী করা হবে।’
নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করে নদীদূষণ প্রতিরোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নদীতে বর্জ্য ফেলা সকলকে বন্ধ করতে হবে। কারণ এটি একটি সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান যারা গড়ে তুলবেন তারা যেন নদী দূষণ না করেন। সেজন্য তাদের আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নির্মাণ করতে হবে, পানি শোধনাগার করতে হবে।’
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রমেশ চন্দ্র সেন, উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
