একুয়েডর সরকার রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিল করার পর সাত বছর ধরে দেশটির লন্ডন দূতাবাসে থাকা উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাজ্যের পুলিশ। একুয়েডরের রাষ্ট্রদূতের আমন্ত্রণে গতকাল বৃহস্পতিবার অ্যাসাঞ্জকে নগর পুলিশের সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করতে যায় বলে পুলিশের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে।
অনলাইনে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, অন্তত সাতজন লোক সেন্ট্রাল লন্ডনের একটি ভবন থেকে দৃশ্যত ক্ষুব্ধ ও নাজুক সাদা দাড়ি-চুলওয়ালা অ্যাসাঞ্জকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে নগর পুলিশের একটি গাড়িতে তুলে নিচ্ছে। তাকে সেন্ট্রাল লন্ডন থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে; পরে ওয়েস্টমিনস্টার বিচারিক আদালতে হাজির করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক অ্যাসাঞ্জ ২০১০ সালে পেন্টাগন ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লাখ লাখ সামরিক ও কূটনৈতিক গোপন নথি ফাঁস করে দিয়ে বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। ওই সব নথির মধ্যে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে আফগান যুদ্ধ-সম্পর্কিত ৭৬ হাজার এবং ইরাক যুদ্ধ-সম্পর্কিত আরও ৪০ হাজার নথি ছিল, যা যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও পেন্টাগনকে চরম বেকায়দায় ফেলে দেয়।
এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে সুইডেনে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের মামলা হয়। গ্রেপ্তার এড়াতে ২০১২ সালে অ্যাসাঞ্জ লন্ডনের একুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নেন। তারপর থেকে তিনি সেখানেই ছিলেন। সুইডেনের সেই মামলা খারিজ হলেও যুক্তরাজ্যের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়ে অ্যাসাঞ্জ বের হতে পারছিলেন না।
লন্ডন পুলিশের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, এবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আদালতের সমনে হাজির না হওয়ার কারণে। আর একুয়েডরের প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো বলেছেন, বারবার ‘আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের’ কারণে অ্যাসাঞ্জের আশ্রয় বাতিল করা হয়েছে। তবে উইকিলিকস বলছে, বেআইনিভাবে অ্যাসাঞ্জের আশ্রয় বাতিল করেছে একুয়েডর। এদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাসাঞ্জকে ধরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ঋণ মওকুফ চেয়েছেন একুয়েডরের প্রেসিডেন্ট মোরেনো।
অ্যাসাঞ্জকে গ্রেপ্তারের খবর জানিয়ে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ বলেছেন, ‘আমি নিশ্চিত করছি, জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ এখন পুলিশ হেফাজতে আছেন এবং তাকে যুক্তরাজ্যে বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।’ অ্যাসাঞ্জকে তুলে দেওয়ার জন্য একুয়েডরকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।’
এই দূতাবাস ছাড়তে অস্বীকৃতি জানানো অ্যাসাঞ্জ (৪৭) বলে আসছিলেন, সেখান থেকে বেরোলে উইকিলিকসের কর্মকাণ্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর করা হবে। বিবিসি বলছে, উইকিলিকস দূতাবাসে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি ধরে ফেলার ঘোষণা দেওয়ার পরদিন তার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
