রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মণদিয়া গ্রামে নির্মাণাধীন একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসা ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় সত্যের দরবার শরিফের পির দাবিদার মওলানা আবুল হাসান বাবুলকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে রাজবাড়ী থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তবে ওই রাতেও দ্বিতীয় দফা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজবাড়ী থানার এস আই মো. আরিফুজ্জামান জানান, ৫ এপ্রিল ব্রাহ্মণদিয়া এলাকায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে প্রয়াত হজরত আব্দুল মান্নান রুহুল্লার নামে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণ শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, পরদিন সকাল ৮টার দিকে নির্মাণাধীন ওই মাদ্রাসার সাইনবোর্ড, টিনশেড ঘরের পিলারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম ভাঙচুর করে আবুল হাসান বাবুলসহ সঙ্গীরা।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার আবুল হাসান বাবুলের আপন ভাতিজা এবং তরিকতে মোহাম্মাদিয়া দরবার শরিফের গদ্দিনীশীন পির দাবিদার মওলানা মো. ইসলাম খান রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় আবুল হাসান বাবুল ও তার আপন ভাই হোসেন খানসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
মাদ্রাসার উদ্যোক্তা ইসলাম খান জানান, ‘তার দাদা আব্দুল মান্নান রুহুল্লার প্রকৃত অনুসারী হিসেবে তিনিসহ এলাকার শত শত ধর্মপ্রাণ মুসলমান এই হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। কতিপয় ব্যক্তি নিজ স্বার্থসিদ্ধির জন্য একটি দ্বিনী প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ সামগ্রী ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধন করেছে’।
পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য কাজী আব্দুল মজিদ জানান, তরিকতে মোহাম্মাদিয়া দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন প্রয়াত হজরত আব্দুল মান্নান রুহুল্লা। তার মৃত্যুর পর দরবার শরিফের খেলাফত পান তারই জ্যেষ্ঠ পুত্র মরহুম আব্দুর রশীদ খান। তার মৃত্যুর পর এ দরবার শরিফ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন মো. ইসলাম খান।
তিনি জানান, অতি সম্প্রতি গাজীপুরে বসবাসরত ইসলাম খানের চাচা আবুল হাসান বাবুল বাড়িতে এসে নিজেকে পির ঘোষণা দিয়ে দরবারের কর্তৃত্ব গ্রহণের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় গত বছর একটি দু’পক্ষের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। তার পরও বিরোধ চলছে।
ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আলমগীর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুর রশীদ মন্ডল, স্থানীয় মাতব্বর কাজী শাহ আলম, সাফায়েত হোসেনসহ অনেকেই জানান, মাদ্রাসা ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা করায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আবুল হাসান বাবুলের পুত্র মেহেদী হাসান দিপুর নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত ইসলাম খানের বাড়িতে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়।
