এসে গেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর উত্তরসূরি। হুয়াও ফেলিক্স তার নাম। পর্তুগালের বেনফিকার হয়ে খেলেন ১৯ বছরের এই তরুণ। রোনালদোর মতোই তার পজিশন উইঙ্গার বা ফরোয়ার্ড। বয়সেও পর্তুগিজ তারকার শুরুর সময়ের কাছাকাছি। ১৮ বছর বয়সে স্পোর্টিং সিপি থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিয়েছিলেন রোনালদো। এদিকে ফেলিক্স ইতিহাস গড়ে নিজের আবির্ভাব জানান দিলেন ১৯ বছরে। বৃহস্পতিবার রাতে বেনফিকার হয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন এই তরুণ। ইউরোপা লিগের ইতিহাসে এটাই সর্বকনিষ্ঠতম ফুটবলারের হ্যাটট্রিকের রেকর্ড। ইউরোপার কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ঘরের মাঠে জার্মানির এইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের সঙ্গে খেলে বেনফিকা। এই ম্যাচে ফেলিক্সের হ্যাটট্রিকে ৪-২ ব্যবধানে জয় পায় পর্তুগিজ দলটি। ম্যাচে তিন গোল করার পাশাপাশি দলের অন্য গোলটিতে অ্যাসিস্টও করেছেন ফেলিক্স।
বেনফিকার যুব দলের গ-ি পেরিয়ে এ বছরই মূল দলে সুযোগ হয়েছে ফেলিক্সের। মাত্র ২০ ম্যাচ খেলেছেন। এর মধ্যেই করে ফেললেন ১০ গোল। পর্তুগালের হয়ে বয়সভিত্তিক ধাপ পেরিয়ে অনূর্ধ্ব-২১ জাতীয় দলে খেলছেন এই তরুণ। তাই উত্তরসূরি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা হয়নি। তবে ফেলিক্সের মাঝে এখনই রোনালদোর ছায়া দেখতে পাচ্ছে ইউরোপিয়ান মিডিয়াগুলো। ফেলিক্সের শুরুটা সত্যিই এমন কিছুর জানান দিচ্ছে। এ বছর জানুয়ারিতে পর্তুগাল লিগে মাসের সেরা ফুটবলার ও সেরা উদীয়মান দুটি পুরস্কার জিতেছেন। পাশাপাশি ইউরোপিয়ান মঞ্চেও বিস্ফোরক শুরু পেলেন হ্যাটট্রিক করে। রোনালদোর প্রিয় অঙ্গন এই ইউরোপিয়ান লড়াই। এখানে গোলের পর গোল পান পাঁচবারের বর্ষসেরা তারকা। ফেলিক্সও মনে হয় অনুজের পথ ধরে এগোবেন!
১৯ বছর ১৫২ দিন বয়সে হ্যাটট্রিক করে ইউরোপায় সবচেয়ে কম বয়সে হ্যাটট্রিকের রেকর্ড গড়েছেন ফেলিক্স। এই রেকর্ডটি এতদিন ছিল ইউক্রেনের ক্লাব দিনামো জাগরেভের মার্কো পাকার। ২০১৪ সালে ১৯ বছর ২১৯ দিন বয়সে হ্যাটট্রিক করেছিলেন এই ফুটবলার। এমন পারফরম্যান্স করার পর ফেলিক্সকে নিয়ে অতিআগ্রহ রোষের সৃষ্টি করছে বেনফিকা কোচ ব্রুনো লেজের। সংবাদমাধ্যমকে থামতে বলে কোচ জানান, ‘সে খুবই তরুণ। তাকে নিয়ে এমন কিছু লেখা থেকে বিরত থাকুন। তাকে ফুটবলটা উপভোগ করতে দিন। আপনারা তাকে দেখেননি। সে যুব দল থেকেই এমন খেলে। আজ হ্যাটট্রিক না করলে আমরা বলতাম ওর ফর্ম হারিয়েছে। তখন আপনারা কেউ ওকে চিনতেনও না। তাই তাকে এই গতিময় ফুটবলের সঙ্গে মিশতে দিন। আগেই তারকা বানিয়ে ফেলবেন না।’
ব্রুনো না চাইলেও ফেলিক্স এরই মধ্যে তারকা খ্যাতি পেয়ে গেছেন। এ বছরের শুরু থেকেই তার দিকে নজর রেখেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার সিটি, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্তাসের মতো বড় ক্লাবগুলো।
