রাজধানীর পরীবাগ মসজিদসংলগ্ন মোড় থেকে বাংলামোটর লিঙ্ক রোড পর্যন্ত সড়কটি পরীবাগ নতুন রাস্তা হিসেবে পরিচিত। সোনারগাঁও রোডের ব্যস্ততা ও যানজট এড়াতে পথচারীরা অপেক্ষাকৃত কোলাহলমুক্ত এই রাস্তাটি ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সুনসান রাস্তাটির ফুটপাত নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে। রাখা হয়েছে প্রতিবন্ধীদের চলাচলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও। কিন্তু ফুটপাত দিয়ে প্রতিবন্ধী তো দূরের কথা, সাধারণ পথচারীদেরও হাঁটার জো নেই। রাস্তার পূর্ব পাশে কোনো দোকান নেই, কিন্তু ফুটপাতের অধিকাংশ অংশ দখল করে খুচরা টাইলস বিক্রি করা হচ্ছে।
সড়কের পরীবাগ প্রান্তের ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে কিছু চা ও ভাজা-পোড়ার দোকান। এ ছাড়া বেশ খানিকটা ফুটপাত ও তার পাশের রাস্তা দখল করে আছে সিটি করপোরেশনের ময়লার কনটেইনার ও পিকআপ ভ্যান। এ কারণে ফুটপাত ও মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে বেগ পেতে হয় পথচারীদের।
সড়কের পশ্চিম পাশের ফুটপাতে টাইলস দোকানগুলোর বিভিন্ন মালামাল রাখা হয়েছে। এর সঙ্গে রাস্তা দখল করে রাখা হয়েছে টাইলস আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত পিকআপ। এ কারণে এই রাস্তা দিয়ে অল্প কিছু গাড়ি চলাচল করলেও প্রায়ই তৈরি হয় যানজটের।
গত বৃহস্পতিবার দেখা যায়, রাস্তার পূর্ব পাশের ফুটপাতে টাইলস বিক্রি করছেন ৮-১০ বিক্রেতা। খুচরা টাইলসের দোকানগুলোয় অনেকেই টাইলস দরদাম করছেন। সাধারণত যাদের ছোট কোনো কাজের জন্য অল্প পরিমাণে টাইলস লাগে, তারাই এখান থেকে টাইলস কিনতে আসেন। দামও তুলনামূলক কম। ফুটপাত বিক্রেতাদের দখলে থাকায় পথচারীরা রাস্তা দিয়েই চলাচল করছেন।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন মাসুম। বাসা হাতিরপুলে হওয়ায় এই রাস্তা দিয়েই নিয়মিত চলাচল করেন। তিনি বলেন, ‘মূল রাস্তার তুলনায় পেছনের এই রাস্তাটা অনেকটা যানজটমুক্ত ও সুনসান। তাই হেঁটে গেলে এই রাস্তাটাই ব্যবহার করি। কিন্তু ফুটপাত দিয়ে আর হাঁটার সৌভাগ্য হয় না। রাস্তা দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়।’
এলাকাটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন। ওয়ার্ড কাউন্সিলর এমএ হামিদ খান ফুটপাত খুচরা টাইলস বিক্রেতাদের দখলে যাওয়ার জন্য সেখানকার মূল ব্যবসায়ীদেরই দায়ী করেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি একবার উচ্ছেদ করে পাঁচ মাস বন্ধ রেখেছিলাম, কিন্তু ওখানকার টাইলস ব্যবসায়ীদের কারণে পারা যাচ্ছে না। তারা রাস্তায় পিকআপ রেখে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতেছেন। আবার তারাই পরোক্ষভাবে ওপাশের ফুটপাত থেকে কিছু মালামাল বিক্রি করছেন।’ গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় টাইলস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিটিং করার কথা জনিয়ে তিনি বলেন, ‘ফুটপাত দখলের ব্যাপারে তাদের কঠোরভাবে বলেছি। এর মধ্যেই রিকুইজিশন দেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে এগুলো উচ্ছেদ করা হবে।’
খুচরা টাইলস বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেও কাউন্সিলরের অভিযোগের কিছু সত্যতা মিলেছে। খুচরা বিক্রেতা হলেও ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ করা নিয়ে তাদের মধ্যে তেমন উদ্বেগ বা আতঙ্ক নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, ‘উচ্ছেদ করলে করবে। তখন অন্য ব্যবসা করব।’ তবে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগসাজশের কথা তারা স্বীকার করেনি। তারা জানান, ফুটপাতে টাইলস বিক্রির জন্য তাদের কাউকে ভাড়া দিতে হয় না। কোনো রাজনৈতিক নেতাকে চাঁদাও দিতে হয় না। তবে পুলিশকে প্রতিদিন ৫০-৬০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। যদিও শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
