ভারতে চলছে ১৭তম লোকসভা নির্বাচন। গত ১১ এপ্রিল দেশটিতে প্রথম ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যেই গতকাল শুক্রবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট দেশটির রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনের প্রচারকালীন বেনামি অর্থদাতাদের নাম ও অর্থের পরিমাণ জানতে চেয়ে আদেশ জারি করেছে। দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণের আগে সুপ্রিম কোর্টের এমন আদেশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শিবিরে আঘাত হানবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কিছুদিন আগেই এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে মোদি বেনামি অর্থদাতাদের নাম জানতে চাওয়াকে নির্বাচন কমিশনের প্রচারবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে জানান। মোদি ও রাহুল গান্ধীকে নির্বাচনের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে সাত সপ্তাহের বেশি সময় দেয় আদালত। নির্বাচন কমিশনের বিধি মেনেই ইলেকটোরাল বন্ডের মাধ্যমে পার্টিগুলোতে অর্থ দান করেন দেশটির দাতারা। কিন্তু শুরু থেকেই ইলেকটোরাল বন্ড নিয়ে বিতর্ক জারি ছিল। এখন আদালত সেই বিতর্ককে আমলে নিয়ে নতুন এই আদেশ জারি করেন।
বিরোধী দলগুলো এবারের নির্বাচনে ৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। আগামী ১৯ মে পর্যন্ত চলবে নির্বাচন। এর মধ্যে অর্থায়ন ইস্যুটি সবগুলো পার্টিকেই অস্বস্তিতে ফেলবে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এবারের ইলেকটোরাল বন্ডের নিয়ম অনুসারে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ১৫ ডলার থেকে এক লাখ ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ বন্ডের মাধ্যমে কোনো পার্টিকে দিতে পারবে। আগে অর্থদাতাদের নাম জানা গেলেও ইলেকটোরাল বন্ডের কারণে তাদের নাম জানা যায় না।
ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং ওয়াচডগ সংস্থাগুলো আদালতে অর্থায়ন নিয়ে মামলায় লড়ছে। তাদের মতে, বেনামি অর্থায়ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে অর্থদানের এই গোপন ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে।
২০১৭ সালে মোদি সরকার ইলেকটোরাল বন্ড ব্যবস্থা চালু করে। অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মের (এডিআর) মতে, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এই ইলেকটোরাল ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী। ফ্যাকাল্টি ইন্ডিয়ান ডাটা জার্নালিজম পোর্টালের মতে, ২০১৮ সালে দেড়শ মিলিয়ন ডলারের বন্ড কেনা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নির্বাচনের আগের মাসগুলোতে একই পরিমাণ অর্থের বন্ড কেনা হয়।
২০১৮ সালে বিজেপির পাওয়া দেড়শ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে অর্ধেক অর্থেরই দাতার নাম জানা যায় না। কংগ্রেস বন্ড থেকে পেয়েছে ৩০ মিলিয়ন এবং এর ৬০ শতাংশ অর্থেরই দাতার নাম অজানা। সূত্র : এএফপি
