নুসরাতের ঘটনায় জড়িত সবাই সরকার দলীয়: রিজভী

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ০১:৩২ পিএম

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত সবাই সরকার দলের। খুনিদের বাঁচাতে নানাভাবে তৎপরতা চলছে দাবি করলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার বেলা ১১টার দিকে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, “সোনাগাজীর সেই মাদ্রাসা শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন শামীম, যুবলীগ নেতা নুর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহমেদ, আব্দুল কাদের ঐ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, সোনাগাজী পৌর কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মকসুদুল হক ও প্রভাষক আবছার উদ্দিনের পক্ষে সাফাই গাইতে শুরু করেছে ওই গ্রুপটি।”

“তারা রাজনৈতিক নেতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধরনাও দিচ্ছে বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। ঘটনায় জড়িত সবাই ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী” বলেন তিনি।

আপনারা জানেন ফেনী হলো ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের নিরাপদ জনপদ- উল্লেখ করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে একসময় সারা দেশে আলোচিত হওয়া ফেনীতে রাজনৈতিক হত্যা, গুম, অপহরণ, দিনে-দুপুরে অস্ত্র উঁচিয়ে ছিনতাই, টেন্ডারবাজি, বালুমহাল লুট, বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারে অস্ত্রের প্রকাশ্য মহড়া, সোনার দোকানে ডাকাতি, ব্যাংকের টাকা ছিনতাই ছিল এখানকার নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।”

সঙ্গে যোগ করেন, “ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী ও সন্ত্রাসের গডফাদারদের সন্ত্রাস যজ্ঞের বিরোধিতা করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরই প্রাণভয়ে রাতের আঁধারে পালিয়ে যেতে হয়েছে- গত দুই দশকের খতিয়ান দেখলে এমন ঘটনাও পাওয়া যাবে ভূরি ভূরি। প্রকাশ্যে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর নৃশংসভাবে হত্যার জন্য এখানে একসময় নির্ধারিত ছিল ‘মৃত্যুকূপ’। ড্রিল মেশিন দিয়ে মানুষকে ছিদ্র করে মেরে ফেলার রেকর্ডও রয়েছে ফেনীতে। খুন, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ২, ৩, কিংবা ৪ সন্তানের জননীরাও রেহাই পাচ্ছেন না গণধর্ষণ থেকে। আওয়ামী লীগের গডফাদারদের ছত্রচ্ছায়ায় চলছে এসব অপকর্ম।”

তিনি বলেন, “নুসরাত হত্যা মামলার তদন্ত তনু ও সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনীর হত্যার মতোই হয় কি-না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। শুধু আমরা নই এই আশঙ্কা করেছেন স্বয়ং মহামান্য হাইকোর্টও।”

আরও বলেন, “আপনারা গণমাধ্যমের মাধ্যমে নিশ্চয়ই জেনেছেন, মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ করতে গিয়ে ফেনীর সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের হয়রানির শিকার হয়েছিলেন নুসরাত জাহান রাফি। ওসি তার নিজের কক্ষে ঘটনা জানার নাম করে আরেক দফা হয়রানি করেছিলেন মেয়েটিকে। এ সময় অঝোরে কাঁদতে থাকা মেয়েটির ভিডিও চিত্র ধারণ করা হচ্ছিল। তখন ওসির কক্ষে কোনো নারী, আইনজীবী বা নারী পুলিশ সদস্যও ছিলেন না। এই ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেছে। কর্তব্য পালনে অবহেলার অভিযোগে ৯ এপ্রিল মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়। যৌন হয়রানির অভিযোগ করার সময় ওসির ভিডিও ধারণ করার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারপর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়াও আইনসিদ্ধ নয়।”

রিজভী বলেন, “সরকার ওসিকে প্রত্যাহার করেই দায় সেরেছে। এখনো তার বিরুদ্ধে আইনগত বা ফৌজধারী আইনে কোন ব্যবস্থা নেয়নি সরকার। মেয়েটি থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর যদি পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিতো তাহলে তাকে পুড়িয়ে মারতে পারত না। আমি নুসরাত জাহান রাফির হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।”

এ সময় দেশের বিভিন্ন জায়গায় নারী ও শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন একটি চিত্র তুলে ধরেন রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স,‌ আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল আউয়াল খান, মুনির হোসেন প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত