খাতুনগঞ্জে ভোগ্যপণ্যের পাহাড়

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ১২:৪০ এএম

রোজার আগে দেশের উল্লেখযোগ্য প্রধান পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের আড়তগুলোতে আমদানি করা ভোগ্যপণ্যের পাহাড় জমেছে। বন্দরে খালাস পর্যায়ে ও আমদানি পর্যায়ে রয়েছে আরও বিপুল পণ্য। খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোজায় ভোগ্যপণ্যের সংকট হওয়ার কোনো কারণ নেই। শুধু দরকার সরকারের তরফ থেকে কঠোর বাজার মনিটরিং। 

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, রোজায় চাহিদা বাড়া ছোলা, চিনি, ভোজ্যতেল, ডাল, পেঁয়াজ ও খেজুর এবার বিপুল পরিমাণ আমদানি হয়েছে। বন্দরেও বিপুল পণ্য খালাসের অপেক্ষায় আছে। বন্দর থেকে নিয়মিত পণ্য খালাস হচ্ছে। বন্দরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে বেশ কিছু পণ্যবাহী জাহাজ। তাই অস্বাভাবিক কারসাজি না হলে রোজার বাজারে কোনো পণ্যের দাম বাড়ার কারণ নেই।

তিনি বলেন, পণ্যের সরবরাহ ঠিক রেখে দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর মনিটরিং এখনই শুরু করা উচিত। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন ও চেম্বার নেতাদের সঙ্গে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন সমন্বিতভাবে বাজার মনিটরিংয়ে থাকবে।

আমদানিকারকরা জানান, বছরে ছোলার চাহিদা ২ লাখ থেকে সোয়া ২ লাখ টন। এর মধ্যে কেবল রমজানেই ৮০ হাজার টন ছোলার চাহিদা থাকে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেই প্রায় ২ লাখ টন ছোলা আমদানি হয়েছে। পাশাপাশি মোটর ডাল আমদানি হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টন। বর্তমানে মজুত ছোলার পরিমাণ রমজানের চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ।

দেশে ডালের চাহিদা বছরে প্রায় ৪ লাখ টন। স্থানীয় উৎপাদনের বাইরে গত আট মাসে প্রায় ২ লাখ টন মসুর আমদানি করেছেন ব্যবসায়ীরা। আর রমজানে মসুরের চাহিদা থাকে ৬০ হাজার টনের কাছাকাছি। তাই রমজানে ডাল জাতীয় পণ্যেরও সংকটের আশঙ্কা করছেন না তারা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বছরে প্রায় ২২ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে দেশে ২০ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন করা হয়েছে। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে আমদানি হয়েছে ৭ লাখ ২০ হাজার টন পেঁয়াজ। বছরজুড়ে খেজুরের চাহিদা ২০ হাজার টন। এর মধ্যে রোজায় লাগে ১৮ হাজার টন। শুল্ক বিভাগের হিসাব মতে, গত আট মাসে দেশে খেজুর আমদানি হয়েছে ২৮ হাজার টন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বছরে ১৬ লাখ টন চিনির চাহিদার মধ্যে দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোতে উৎপাদন হয় ৭০ থেকে ৮০ টন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিসাবে গত আট মাসে আমদানি হয়েছে সাড়ে ৮ লাখ টন চিনি। এর বাইরে গত অর্থবছর আমদানি হওয়া ৯ লাখ টন এখনো অবিক্রীত রয়েছে। একইভাবে দেশে বছরে ১৮ লাখ টন ভোজ্য তেলের চাহিদার বিপরীতে গত আট মাসে আমদানি হয়েছে ১৭ লাখ টন। আমদানি করা তেলের আরও চালান পাইপলাইনে আছে।

খাতুনগঞ্জ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি আড়তই আমদানি পণ্যে ভরা। আড়তদাররা বলছেন, কোন কোন পণ্য চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত আমদানি হয়েছে। তাই রমজানে এসব পণ্যের ঘাটতির কোন আশঙ্কা নেই।

চাক্তাই এলাকার পেঁয়াজের আড়তদার নুরুল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বর্তমানে পাাইকারি বাজারে নাসিক পেঁয়াজ কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ১৮ টাকা এবং খাসখালী জাতের পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ১২ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে প্রায় দেড় থেকে দুই গুণের কাছাকাছি। রমজানেও দেখা যায়, পাইকারি বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলেও খুচরা বাজারে কারসাজি করে কিংবা গুজব রটিয়ে দাম বাড়ানো হয়। তাই রমজানে মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে খুচরা বাজারের ওপর মনিটরিং বেশি প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, রমজান মাসে যেসব ভোগ্যপণ্যের বেশি চাহিদা রয়েছে সেগুলোর আমদানি ও মজুত দুটোই খুব ভালো। তাই ছোলা, ডাল, খেজুর, চিনি, ভোজ্য তেল ও পেঁয়াজের কোনো সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই। তারপর কেউ যাতে কোনো ধরনের কারসাজি করে সাপ্লাই চেইন ব্যাহত করতে না পারে সেদিকে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত