নির্যাতিত নারী-শিশুর জবানবন্দি নেবেন নারী হাকিম

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ০২:২৩ এএম

সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে এখন থেকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের জবানবন্দি নেওয়ার দায়িত্ব নারী হাকিমকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. জাকির হোসেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতি গত সোমবার এ নির্দেশনা পাঠান।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, সুপ্রিম কোর্টের ‘স্পেশাল কমিটি ফর জুডিশিয়াল রিফরমস’র সভার সিদ্ধান্ত প্রধান বিচারপতি অনুমোদন করার পর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল এটি সার্কুলার হিসেবে জারি করেছেন। সার্কুলারে বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এ বর্ণিত অপরাধ সংঘটনে ওয়াকিবহাল

ব্যক্তির জবানবন্দি উক্ত আইনের ২২ ধারা অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করা হয়। অপরাধের তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে লিপিবদ্ধকৃত জবানবন্দি অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। স্পেশাল কমিটি ফর জুডিশিয়াল রিফরমস জানতে পেরেছে, বর্তমানে বেশকিছু ক্ষেত্রে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার নারী বা শিশুদের জবানবন্দি পুরুষ ম্যাজিস্ট্রেট কর্র্তৃক লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে।

এতে বলা হয়, ‘একজন পুরুষ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নারী বা শিশু ভিকটিম ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের বর্ণনা দিতে সঙ্কোচবোধ করে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার নারী বা শিশুদের জবানবন্দি একজন নারী ম্যাজিস্ট্রেট কর্র্তৃক লিপিবদ্ধ করা আবশ্যক। এতে নারী বা শিশু ভিকটিমরা সহজে ও নিসঙ্কোচে তাদের ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দিতে পারবে।’

তবে সংশ্লিষ্ট জেলায় বা মহানগরীতে নারী ম্যাজিস্ট্রেট না থাকলে অন্য কোনো যোগ্য ম্যাজিস্ট্রেটকে এ দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে বলে অভিমত দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এ ছাড়া এ নির্দেশনা অনুসরণের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা বা অসুবিধা দেখা দিলে তা সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনতেও অনুরোধ জানানো হয়েছে সার্কুলারে। ২০১০ সালে ইউএনডিপির বিচার বিভাগ সম্পর্কিত প্রকল্পের সহযোগিতায় ‘স্পেশাল কমিটি ফর জুডিশিয়াল রিফরমস’ গঠন করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত