যেখান থেকে শুরু ‘গেম অফ থ্রোনস’

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ১১:৪৩ পিএম

সারা বিশ্বে আলোড়ন তুলেছে ওয়েবভিত্তিক সিরিজ ‘গেম অফ থ্রোনস’। গত রোববার সিরিজের অষ্টম ও শেষ মৌসুমের প্রথম এপিসোড প্রচারিত হয় এইচবিও চ্যানেলে। এদিন দর্শকপ্রাপ্তিতে রেকর্ড গড়ে সিরিজটি। সিরিজের চূড়ান্ত মুহূর্ত যত এগিয়ে আসছে এর প্রতি দর্শকদের আগ্রহ যেন আরও বাড়ছে। বাংলাদেশে এই সিরিজ নিয়ে কৌতূহলী মানুষের সংখ্যাটাও কম নয়। ২০১১ সালের ১৭ এপ্রিল শুরু হওয়া ‘গেম অফ থ্রোনস’ মূলত সিংহাসন দখল করতে কয়েকটি অভিজাত পরিবারের লড়াই নিয়ে সুদীর্ঘ কাহিনী। কিন্তু এই লড়াই যেখান থেকে শুরু হয়েছে তার আগের পটভূমি নিয়ে লিখেছেন পরাগ মাঝি

 

শুরুর কথা

জর্জ আর আর মার্টিন রচিত ফ্যান্টাসি উপন্যাস ‘এ সং অব আইস অ্যান্ড ফায়ার’ অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে ‘গেম অফ থ্রোনস’। এই সিরিজটি কাহিনী যেখান থেকে শুরু হয়েছে তার আগে এর পটভূমির রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস। এরপর কয়েকশ বছর আগের কাহিনী এবং সর্বশেষে কয়েক দশকের পুরনো গল্প। তাই পৌরাণিক এই ঘটনাক্রম সম্পর্কে দর্শকদের পূর্ব ধারণা থাকলে আরও উপভোগ্য হতে পারে সিরিজটি।

ওয়েস্টেরস একটি বিশাল জনপদ

একটি পৌরাণিক জনপদ। তবে এই জনপদ এত বিশাল আয়তনের যে, আকৃতির দিক থেকে এটি একটি মহাদেশের সমান। ন্যারো সি-এর অপর পাশে পৃথিবীর পশ্চিম সীমানায় এই জনপদের অবস্থান। ‘ন্যারো সি’-এর অপর পাশে এটি অবস্থিত। এখানে যখন শীতকাল আসে, তখন তার স্থায়িত্ব হয় টানা কয়েক বছর। শীতের মতো গ্রীষ্মকালও সেখানে কয়েক বছর ধরে চলে। বিশাল এই মহাদেশ-সম জনপদের একদম উত্তরের রাজ্যটি হচ্ছে উইন্টারফেল। এখানে সবসময় এমনকি গ্রীষ্মেও তুষারপাত হয়। আবার মহাদেশের দক্ষিণের রাজ্য ডোর্ন, বিস্তীর্ণ মরুভূমি। সেখানে অনেক সময় শীতকালেও তুষারপাত হয় না।

দুই আদিবাসী গোষ্ঠী

ওয়েস্টেরসে বসবাস করত চিলড্রেন অফ ফরেস্ট। এরা মানুষ না, রহস্যময় এক প্রজাতি। তারা ওল্ড গডসে বিশ্বাস করে। তাদের মূল শক্তি হচ্ছে জাদুবিদ্যা। এছাড়া প্রায় ১২ হাজার বছর আগে প্রথমবারের মতো সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ওয়েস্টেরসে প্রথমবারের মতো মানুষের আগমন ঘটে। আর এ জন্যই তাদের ও তাদের বংশধরদের ‘ফার্স্ট ম্যান’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। সংগত কারণেই ওয়েস্টেরসে শুরু হয় মানুষ আর জংলি শিশুদের বিরোধ ও সংঘাত। এক্ষেত্রে মানুষ হিসেবে ফার্স্টম্যানদের ছিল চৌকস সামরিক কৌশল, আর চিলড্রেন অফ ফরেস্টদের ছিল জাদুবিদ্যা। এই বিরোধ আর সংঘাতে কেটে যায় ৪ হাজার বছর। ততদিনে মানুষেরাও পুরাতন ঈশ্বর আস্থা এনেছে। তবে যুদ্ধ এখনো থামেনি।

হোয়াইট ওয়াকারদের উত্থান

এরকমই একটি সময়ে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়ানক ও সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী শীতকাল শুরু হয় ওয়েস্টেরসে। তীব্র এই শীতকালে একসময় মৃত মানুষ, জীবজন্তু উঠে আসে মাটি থেকে। এদের বলা হয় হোয়াইট ওয়াকার। এমন পরিস্থিতিতে ঐক্য গড়ে ওঠে মানুষ আর জংলি শিশুদের মধ্যে। সম্মিলিতভাবে তারা সামরিক কৌশল ও জাদুবিদ্যা প্রয়োগ করে মৃতদের সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করে দেয় এবং উৎখাত করে উত্তর দিকে বিতাড়িত করে। এই ঘটনার পর থেকেই শীতকাল ওয়েস্টেরসে একটা আতঙ্কের নাম। শীতকাল মানেই মৃত বাহিনীর আগমন। কিন্তু না, এরপর আর কখনোই সে রকম তীব্র শীতকাল আর আসেনি। হোয়াইট ওয়াকারদেরও আর দেখা যায়নি। একজন মানুষ জংলি মানবদের জাদুর সাহায্যে উত্তরে একটা বিশাল দেয়াল তৈরি করে, যেন পরবর্তী সময়ে মৃতরা উঠে এলেও বাধার সম্মুখীন হয়। এরপর ধীরে ধীরে জংলি মানবরা বিলুপ্ত হয়ে যায়।

অ্যান্ডালদের আগমন ও রাজ্য ভাগ

চিলড্রেন অব ফরেস্ট বা জংলি মানবরা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পর ওয়েস্টেরসে আসে আরেক দল মানুষ। এই মানুষদের পরিচিতি অ্যান্ডাল নামে। তারা ওয়েস্টেরসে স্টিল টেকনোলজি ও নতুন ধর্ম (নিউ গডস) প্রচলন করে। একে একে ফার্স্টম্যান ও অ্যান্ডালদের বংশধররা ওয়েস্টেরসে ৬টা রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে।

উইন্টারফেল, হ্যারেনহল, দ্য এইরি, ক্যাস্টারলি রক, স্টর্মস এন্ড, হাই গার্ডেন এবং পরবর্তী সময়ে সপ্তম রাজত্ব ডোর্নও মানুষের কব্জায় আসে। এজন্য ওয়েস্টেরসকে সেভেন কিংডমসও বলা হয়। প্রতিটা রাজ্যে ভাগ করে দেওয়া হয় ল্যান্ডলর্ডদের মধ্যে। সব ল্যান্ডলর্ড (ব্যানারম্যান) নিজ নিজ রাজার প্রতিনিধি হিসেবে ওসব অঞ্চল শাসন করতে থাকেন। মূলত অ্যান্ডালরাই পরবর্তী সময়ে ওয়েস্টেরসে অধিকতর প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।

যেহেতু ওয়েস্টেরসে দুই দল মানুষের বসবাস তাই ন্যারো সি এর ওপাশের মানুষরা ওয়েস্টেরসের মানুষ দেখলেই তাদের সম্বোধন করে তাদের পূর্বপুরুষের নামে।

যেখানে ফার্স্টম্যানদের আধিপত্য

ওয়েস্টেরসে অ্যান্ডালরা শক্তিশালী হয়ে ওঠায় ফার্স্টম্যানদের বংশধররা শুধু উইন্টারফেলে রাজত্ব করতে থাকে। অ্যান্ডালরা উত্তরের হিমশীতল উইন্টারফেলও আয়ত্তে আনার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তারা বুঝে গিয়েছিল সর্বপ্রথম মানুষের রক্তধারী ছাড়া কেউ হিম নরক (উইন্টার হেল) কব্জায় রাখতে পারবে না। অ্যান্ডালরা যতই সর্বত্র রাজত্ব করুক না কেন ফার্স্টম্যানদের বংশধররা তাদের সবসময় সতর্ক করে দেয় ‘শীতকাল আসছে’ বলে। যখন সত্যি সত্যি শীতকাল আসবে, তাদের নতুন ঈশ্বরেরা কখনোই দাঁড়াতে পারবে না আর্মি অফ ডেড বা মৃতদের সেনাবাহিনীর সামনে। আর এখন জংলি শিশু অথবা তাদের জাদুবিদ্যাও নেই। মৃত হোয়াইট ওয়াকারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারবে কেবলই ফার্স্টম্যানদের বংশধর ও তাদের পুরাতন ঈশ্বর। যদিও সময়ের ব্যবধানে বর্তমানে উইন্টারফেলের অনেক মানুষই বিশ্বাস করে না এসব জাদুবিদ্যা আর মৃত বাহিনীর গালগপ্প। আর অন্যান্য রাজত্বের কথা তো বলারই দরকার নেই।

৩০০ বছর আগে আয়রন থ্রোন

এভাবে হাজার হাজার বছর কেটে গেল। এখন জানতে হবে আজ থেকে ৩০০ বছর আগের কথা। ওয়েস্টেরসের বাইরের ভ্যালেরিয়ান সভ্যতা ধ্বংস হয় এবং ড্রাগনস্টোনের এগোন টারগারিয়ান ও তার দুই বোন তিনটি ড্রাগনের পিঠে চড়ে ওয়েস্টেরস আক্রমণ করে। টারগারিয়ানদের সৈন্যসংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও যুদ্ধে ওয়েস্টেরসের রাজ্যগুলো পরাজিত হয়। কারণ তারা তাদের দুর্গগুলো তৈরি করেছিল বাইরের আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য। তাই ওপর থেকে যখন ড্রাগনগুলো অগ্নিবর্ষণ শুরু করে, তখন তাদের প্রতিরোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ওয়েস্টেরসজয়ী টারগারিয়ান রাজারা যেখানে অবতরণ করে অর্থাৎ কিংস ল্যান্ডিংকে রাজধানী বানিয়ে তারা ওয়েস্টেরস শাসন করা শুরু করে। এমনকি ড্রাগনের দাপটে ফার্স্টম্যানদের বংশধররাও প্রথমবারের মতো দক্ষিণের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। টারগারিয়ানরা পত্তন করে আয়রন থ্রোন।

টারগারিয়ানদের অদ্ভুত প্রজনন

টারগারিয়ানরা ছিল ড্রাগন ব্লাড, তাই আগুনে তাদের কোনো ক্ষতি হতো না। নিজেদের পিওর রাখার জন্য তারা নিজেদের মধ্যেই বিয়ের প্রচলন করেছিল। আর এই ধরনের প্রজননের ফলস্বরূপ একসময় প্রায় অর্ধেকের মতো টারগারিয়ান বংশের ছেলেমেয়ের মধ্যে পাগলামির নানা লক্ষণ দেখা গেল। বাকিদের মধ্যে অবশ্য সত্যি সত্যিই ড্রাগনের শৌর্য বীর্য দেখা যেত। একসময় তাদের ড্রাগনগুলোও একে একে মরে যেতে লাগল। মৃত এসব ড্রাগনের কংকালগুলো সিংহাসনের পাশে সাজিয়ে রাখা হতো। সবগুলো ড্রাগন মারা যাওয়ার পর টারগারিয়ানরা ওয়াইল্ড ফায়ার ব্যবহার শুরু করে শত্রুদের প্রতিহত করার জন্য।

ম্যাড কিং ও অপহরণ

সিরিজের প্রেক্ষাপট থেকে প্রায় ১৭ বছর আগে টারগারিয়ান রাজা এরিস সেভেন কিংডমের লর্ড ছিলেন। তার পাগলামি ছিল অন্য যে কোনো টারগারিয়ানের থেকে অনেক বেশি। এজন্য তাকে সম্বোধন করা হতো ম্যাড কিং হিসেবে। সে যখন যাকে ইচ্ছা পুড়িয়ে মারত।

‘সবাইকে পুড়িয়ে মারো’ ছিল তার বুলি। একসময় কোনো এক রহস্যময় কারণে তার বড় ছেলে এবং একজন ট্রু টারগারিয়ান রেয়গার অপহরণ করে উইন্টারফেলের লর্ড স্টার্কের একমাত্র কন্যা লিয়েনাকে। প্রতিবাদ এবং মেয়েকে উদ্ধারের জন্য রাজধানীতে যায় লর্ড স্টার্ক ও তার বড় ছেলে ব্র্যান্ডন। কিন্তু দরবারে শত শত লোকের সামনেই তাদের পুড়িয়ে মারে ম্যাড কিং এরিস টারগারিয়ান। এরপর লিয়েনার বাগদত্তা স্টর্মস এন্ডের রবার্ট ব্র্যাথিওন ও লর্ড স্টার্কের দ্বিতীয় ছেলে নেড স্টার্ক ম্যাড কিং এরিসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। রবার্ট ব্র্যাথিওন ছিল এক মহারথী। জীবনে সব যুদ্ধে সে অংশ নিয়েছে হাতুড়ি নিয়ে। অন্যদিকে, নেড ছিল আরেক বীর যোদ্ধা। বিদ্রোহ দমন করার জন্য ম্যাড কিং এইরিসের লর্ড অ্যারিনকে নির্দেশ দেয়। কিন্তু ম্যাড কিংয়ের আদেশ অমান্য করে ব্র্যাথিওন ও স্টার্কের সেনাবাহিনীর সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে। যুদ্ধে পরাজিত হয় টারগারিয়ানরা। ক্যাস্টারলি রকের লর্ড টাইউইনের (মাইটি টাইউইন) আদেশে টারগারিয়ান পরিবারের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা নির্বিশেষে সবাইকে রাতের আঁধারে ঘুমের মধ্যে হত্যা করা হয়। রাজত্বের বাইরে থাকায় বেঁচে যায় ম্যাড কিংয়ের ৪ বছরের শিশুপুত্র ভিসেরিস ও তার ছোট বোন ডেনেরিস।

শেষের কথা

টারগারিয়ানদের পরাজিত করে রবার্ট আয়রন থ্রোনে আরোহণ করে রবার্ট ব্র্যাথিওন। তার বাগদত্তা লিয়েনা মারা যাওয়ায় লর্ড অ্যারিনের পরামর্শে রাজত্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি টাইউইন ল্যানিস্টারের একমাত্র মেয়েকে বিয়ে করে কিং রবার্ট। অ্যারিন হ্যান্ড অফ কিং, টাইউইন ওয়ার্ডেন অফ ওয়েস্ট এবং নেড স্টার্ক ওয়ার্ডেন অফ নর্থ নিযুক্ত হয়। এর ১৭ বছর পর হ্যান্ড অফ কিং লর্ড অ্যারিন মারা যায়। তারপর থেকেই গেম অফ থ্রোনস-এর সিরিজটা শুরু হয়।

সিরিজ নিয়ে মজার তথ্য

image

গেম অফ থ্রোনস-এর ১৪ অভিনেতা হ্যারি পটার মুভি সিরিজেও অভিনয় করেছেন!

দানেরিস তার বিয়ের অনুষ্ঠানে যে ঘোড়ার হৃৎপি- খেয়েছিল, সেটি ৩ পাউন্ড ওজনের গামি জেলো দিয়ে বানানো চকলেট পুডিং।

ট্যালিসা স্টার্কের (রব স্টার্কের স্ত্রী) চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিখ্যাত অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিনের নাতনি উনা চ্যাপলিন।

সিরিজের জন্য আয়রন থ্রোন সিংহাসনটি বানাতে সময় লেগেছিল দুই মাস।

এই সিরিজের জন্য ডোত্রাকি নামে একটি ভাষা তৈরি করা হয়েছে, যার শব্দ সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার।

গেম অফ থ্রোনস-এর প্রতিটি পর্ব নির্মাণের পেছনে গড়ে বাজেট বরাদ্দ থাকে ৬ মিলিয়ন ডলার।

তুরস্কে সেনাবাহিনী সদস্যদের জন্য গেম অফ থ্রোনস দেখা নিষিদ্ধ।

সিরিজটির নির্মাতারা প্রায়ই ভুয়া স্ক্রিপ্ট সরবরাহ করে অভিনেতাদের বিভ্রান্ত করতেন। সানসা চরিত্রে অভিনেত্রী সোফি টার্নারকে তিন সপ্তাহ একটি ভুয়া স্ক্রিপ্ট দিয়ে ভয় দেখানো হয়েছিল যে তার চরিত্রটি মারা যাবে।

এয়মন টারগারিয়ান চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেতা পিটার ভন বাস্তব জীবনেও অন্ধ।

সানসা স্টার্কের নেকড়েটিকে বাস্তব জীবনে পোষ মানিয়েছেন অভিনেত্রী সোফি টার্নার।

গেম অফ থ্রোনস-এর প্রতি পর্বে গড়ে ৪.৫টি চরিত্র মারা যায়। এর মধ্যে প্রথম চার পর্বেই মারা যায় ১৩৩টি চরিত্র।

‘দ্যা জায়ান্ট’ নিল ফিঙ্গলটন ব্রিটেনের সবচেয়ে লম্বা ব্যক্তি।

‘দ্য মাউন্টেইন’ হ্যাফর জুলিয়াস বিয়র্নসন পৃথিবীর তৃতীয় শক্তিশালী মানুষ। সম্প্রতি কিছু গবেষক দাবি করেছেন, তাত্ত্বিকভাবে এই লোক চাইলেই তার হাত দিয়ে মানুষের মাথার খুলি ভাঙতে সক্ষম।

জাহাজের দৃশ্যগুলো শ্যুট করার জন্য প্রোডাকশন টিমের একটি মাত্র জাহাজ আছে, বাকি সবই স্পেশাল ইফেক্টের খেলা।

পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পাইরেটেড ডাউনলোড হয়েছে গেম অফ থ্রোনস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত