সন্তান কথা শোনে না অভিযোগ অনেক বাবা-মায়ের। পারিবারিক সম্পর্ককে শ্রদ্ধাপূর্ণ ও মমতাপূর্ণ করা এবং সন্তানকে সব সময় আদেশ-নির্দেশ না দিয়ে উদ্বুদ্ধ করলে, পরিশ্রমী এবং কষ্টসহিষ্ণু করে তুললে সন্তান কথা শুনবে। জেনে নিন সন্তানকে কথা শোনাতে আপনার করণীয় কী
তিরস্কার বা সারাক্ষণ আদেশ-নির্দেশ না করে সন্তানকে তার করণীয় যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দিন। সারাক্ষণ আদেশ-নির্দেশ করতে থাকলে সন্তান আপনাকে প্রতিপক্ষ ভাববে। আপনি সন্তানের বন্ধুÑ এই অনুভূতি তার বিকাশের জন্য জরুরি।
আপনার সন্তান বুঝবে যে আপনি তাকে বোঝেন, তত সে আপনার কথা শুনবে। তার কথায়ও মনোযোগ দিন। তাকে বুঝতে দিন যে আপনি তাকে বোঝেন। তার পরিবর্তন দেখে অবাক হবেন।
সন্তানের ব্যাপারে বাবা-মায়ের ঐকমত্য গুরুত্বপূর্ণ। বাবা-মা ভিন্ন মত দেবেন না। সন্তান বিভ্রান্ত হবে। আগেই সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে নিন। কোনো ব্যাপারে দ্বিমত হলে সন্তানের সামনে বিতর্কে জড়াবেন না।
সন্তানের প্রশ্নের জবাব দিন। প্রশ্নের জবাব না দিলে সে জবাবের জন্য হয়তো খুঁজে নেবে অন্য কাউকে। যার পরিণতি আপনার জন্য সুখকর না-ও হতে পারে।
শিশুরা তাদের বাবা-মায়েরা কী বলছে সেটা নয়, কী করছে সেটা অনুকরণ করে। কাজেই সন্তানকে এমন কিছু করতে বলবেন না যা আপনি নিজেই করেন না।
ভুল করলে মাশুল পেতে দিন, প্রয়োজনে শাস্তি দিন। সন্তান যদি বুঝতে পারে যে এই অবাধ্য হওয়ার জন্য তাকে শাস্তি পেতে হবে, তাহলে সে সাবধান হবে।
একই কথা বারবার বললে তার গুরুত্ব কমে যায়। এর চেয়ে একবার বলুন। তাকে বুঝতে দিন না শোনার শাস্তি।
শিশুদেরও যে আত্মমর্যাদাবোধ আছে, অনেক সময় ভুলে যাই। তাকে বকাবকি করি, ভুল ধরিয়ে দিই বা অপ্রস্তুত করি। ব্যর্থতার প্রসঙ্গ তুলে খোঁটা দেবেন না। বরং আপনার উৎসাহ তার ব্যর্থতাকেও সাফল্যে রূপান্তরিত করতে পারে।
