ওয়াসার ৬২ শতাংশ গ্রাহক দুর্নীতির শিকার

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ০৩:৩৩ এএম

গত এক বছরে (জুলাই ২০১৭-জুন ২০১৮) পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন সেবা নিতে ওয়াসাতে সরাসরি এসেছিল ২৬.৯ শতাংশ মানুষ। ওই সেবা পেতে এদের ৬১.৯ শতাংশই দুর্নীতি ও অনিয়মের শিকার হয়েছে। এ ছাড়া সংস্থাটির পানির নিম্নমানের কারণে ফুটিয়ে পান করতে গিয়ে বছরে প্রায় ৩৩২ কোটি টাকার গ্যাস খরচ হচ্ছে। গতকাল বুধবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। রাজধানীর ধানম-িতে সংস্থার কার্যালয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

তবে টিআইবির এমন তথ্য সঠিক নয় বলে দেশ রূপান্তরের কাছে দাবি করেছেন ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসীম এ খান। তিনি বলেন, ইটস নট ট্রু। আমাদের এখানে কলসেন্টারের মাধ্যমে সুবিধা দেওয়া হয়, সেখানে গত পাঁচ বছরের ফোন রেকর্ড আছে। তারা আমাকে প্রমাণ দিক যে, এই ফোন রেকর্ডের মধ্যে টাকা চাওয়ার বিষয়টি আছে! টিআইবির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ওয়াসার পক্ষ থেকে একটি সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে সংস্থাটির বক্তব্য তুলে ধরা হবে বলেও জানান ওয়াসার এই কর্মকর্তা।

‘ঢাকা ওয়াসা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদন তৈরিতে টিআইবি ওয়াসার ১০ জোনের ২ হাজার ৭৬৮ জন সংযোগ গ্রহণকারী থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে। এতে দেখা গেছে, সেবা নিতে এসে দায়িত্ব পালনে অবহেলার শিকার হয়েছেন ৫১.৩ শতাংশ, ঘুষ বা নিয়ম-বহির্ভূত অর্থ আদায় করা হয়েছে ৩৬.১ শতাংশের থেকে, ভৌতিক বিলের শিকার ২৩ শতাংশ ও সময়ক্ষেপণের কবলে পড়তে হয়েছে ২০.৭ শতাংশকে। টিআইবির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পানির সংযোগ গ্রহণে ২০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা, পয়ঃনিষ্কাশন প্রতিবন্ধকতা অপসারণে ৩০০ থেকে ৪৫০০ টাকা, গাড়িতে করে জরুরি পানি সরবরাহ করতে ২০০ থেকে ১৫০০ টাকা, মিটার ক্রয়/পরিবর্তন করতে ১০০০ থেকে ১৫০০০ টাকা, মিটার রিডিং ও বিল সংক্রান্ত বিষয়ে ৫০ থেকে ৩০০০ টাকা এবং গভীর নলকূপ স্থাপনে এক লাখ থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়। এই ঘুষ গ্রহীতাদের মধ্যে ৮৬.২ শতাংশই ওয়াসার কর্মচারী ও ১৫.৮ শতাংশ দালাল।

প্রতিবেদনে ওয়াসার পানির নিম্নমানের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, পানির মান খারাপ হওয়ায় ৯১ শতাংশ মানুষ পানি ফুটিয়ে পান করে। এতে বছরে গ্যাসের আর্থিক ক্ষতি ৩৩২ কোটি টাকার সমান। এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এশিয়ার কোনো দেশে পানি ফুটিয়ে পান করা হয় না। ঢাকা ওয়াসাকে এ বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিচালিত জরিপ এলাকা থেকে দেখা গেছে ২০.৬ শতাংশ গ্রাহক বছরে সবসময় পানি সরবরাহে ঘাটতির কথা বলেছেন। চাহিদা অনুযায়ী পানি না পাওয়ার হার বস্তি এলাকায় সবচেয়ে বেশি। সেখানে ৭১.৯ শতাংশ চাহিদা অনুযায়ী পানি পান না। এ ছাড়া আবাসিক এলাকায় ৪৫.৮ শতাংশ, বাণিজ্যিক এলাকায় ৩৪.৯ শতাংশ ও শিল্প এলাকায় ১৯ শতাংশ চাহিদা অনুযায়ী পানি পান না। সার্বিক সেবা গ্রহীতাদের ৪৪.৮ শতাংশ চাহিদা অনুযায়ী পানি পান না

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াসার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রণালয় হস্তক্ষেপ করে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে পদায়ন ও বদলিতে সংস্থাটির অনিয়ম রয়েছে। অনিয়ম রয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও। এ ছাড়া প্রশাসনিক কাজে সিবিএর অযাচিত হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত