দুর্ভাগা ম্যানসিটির বিদায়

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ০২:১২ এএম

কেউ বলছেন ‘ক্রেজি গেম’। কেউ বলছেন ‘ইটস ক্রুয়াল’। তবু ইতিহাদ স্টেডিয়ামের নাটকীয় বিষাদকে ঠিক বোঝানো যাচ্ছে না। যারা পাগলা ম্যাচটা দেখেছেন তারা হয়তো ‘স্বপ্ন ভেবে’ এখনো আনমনা হয়ে আছেন।

একটা ফুটবল ম্যাচ নিয়ে যতরকম নাটকীয়তা কল্পনা করা সম্ভব তার সব দেখেছে ইতিহাদ। আর শেষে হিরন্ময় বিষাদে ডুবে গেছে। জিতেও হেরেছে ম্যানচেস্টার সিটি। আর টটেনহ্যাম হটস্পার হেরেও জেতার আনন্দে উদ্বেল। দ্বিতীয় লেগের কোয়ার্টার ফাইনালের স্কোর ম্যানসিটির পক্ষে ৪-৩। কিন্তু দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৪। ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচ ১-০-তে জিতেছিল টটেনহ্যাম। অ্যাওয়ে গোলের সুবাদে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে উঠেছে তাই মরিসিও পচেত্তিনোর দল।

এতক্ষণে ভিএআর নিয়ে একটা কথাও লেখা হয়নি। বুধবার রাতের ম্যাচের নায়ক আসলে ভিএআরই। শেষ মুহূর্তে ম্যানসিটির যে গোল অফসাইডে বাতিল হয়েছে তা ভিডিও অ্যাসিসট্যান্ট রেফারির কল্যাণে। আর শেষ বাঁশি বাজার ১৭ মিনিট আগে ফার্নান্দো লরেন্তে যে গোলটি করেছেন তাতে হাতের ছোঁয়া ছিল। ভিএআর যেটাকে বাতিল করেনি। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণ করেছে ওই গোলটাই। ম্যানসিটির ম্যানেজার পেপ গার্দিওলা যদিও মনের কষ্ট গোপন করে বলেছেন, ‘আমি ভিএআর সমর্থন করি। একটু আগেই দেখিয়েছে লরেন্তের গোলটি হ্যান্ডবল ছিল। এক কোণ থেকে দেখলে এটা হ্যান্ডবল। তবে রেফারি যে কোণ থেকে দেখেছে তাতে হয়তো তা মনে হয়নি।’ ফেয়ার ফুটবলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ইউরোপের অন্যতম সেরা ম্যানেজারের ঘোষণা, ‘আমি সুন্দর ফুটবল আর সঠিক সিদ্ধান্তের পক্ষে। যদি ওটা (৯১ সিনিটে স্টার্লিংয়ের গোল) অফসাইড হয় তো ওটা অফসাইডই। বর্তমান এবং ভাবিষ্যতেও সিদ্ধান্ত সঠিক হওয়া উচিত।’ ভিএআর নিয়ে এমন উদারতার পরও কিন্তু ক্ষতিটা ভুলতে পারছে না ম্যানসিটি। দলের ম্যানেজার তাই পরে স্বগতোক্তির মতো বলেছেন, ‘এটা কঠিন। আমরা প্রায় সেমিতে উঠেই গিয়েছিলাম। তাই ব্যাপারটা ভয়ংকর লাগছে। তবে আমরা এটা মেনে নিয়েছি। এই প্রতিযোগিতায় ভুল আপনাকে বড় শাস্তি দিতে পারে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের জন্য বাজে সমাপ্তি এনে দিল।’

টটেনহ্যামের ম্যানেজারের ভিএআর নিয়ে দুঃখ থাকার কথা নয়। পচেত্তিনোও বলেছেন, ‘আপনার পক্ষে বা বিপক্ষে যেটাই হোক ভিএআরের ওপর আস্থা রাখতে হবে।’ তবে ভিডিও অ্যাসিসট্যান্ট রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে যতই আলোচনা-সমালোচনা হোক, তাতে কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের সৌন্দর্য মুছে যাবে না।

বুধবার রাতে অদ্ভুত একটা ফুটবল ম্যাচ দেখেছে গোটা দুনিয়া। যেকোনো বিশেষণ এই খেলার সঙ্গে যায়। এমন গতিময়, উন্মাদনা ছড়ানো ম্যাচ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খুব বেশি দেখেনি। প্রথম ২১ মিনিটে পাঁচ গোল। প্রথম চারটি আবার ১১ মিনিটের মধ্যে। পলকে পলকে এভাবে কোনো বড় ম্যাচের রং বদলাতে বেশি দেখাও যায় না। ৪ মিনিটের মাথায় রাহিম স্টার্লিংয়ের গোলে এগিয়ে যায় ম্যানসিটি। তিন মিনিটের মধ্যে গোল শোধ করেন সন হিউং-মিন। এর তিন মিনিট পর দক্ষিণ কোরিয়ান তারকা আরও একটি গোল করে টটেনহ্যামকে এগিয়ে দেন। এক মিনিট পরই বার্নার্দো সিলভার গোল। আবার সমতায় ম্যানসিটি। ২১ মিনিটে স্টার্লিংয়ের দ্বিতীয় গোলে স্বাগতিকরা এগিয়ে যায়। ঝড়ের গতিতে আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে শেষ হয় প্রথমার্ধ। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯ মিনিটে সার্জিও আগুয়েরো গোল করে ম্যানসিটিকে সেমির স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ১৪ মিনিট। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে লরেন্তের সেই বিতর্কিত গোল। আবার উন্মাদনা ফেরে টটেনহ্যাম শিবিরে। সেই উন্মাদনাই শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছে। শেষে ৯১ মিনিটের মাথায় স্টার্লিংয়ের এক মায়াবী বিভ্রম ম্যানসিটিকে বাঁচাতে পারত। কিন্তু নিষ্ঠুর ভিএআর জানিয়ে দেয় গোলটি অফসাইড। পুরো ইতিহাদের সঙ্গে নেচে ওঠা গার্দিওলা মুহূর্তের মধ্যে মাথা নিচু করে স্তব্ধ হয়ে যান। জয়ের পাগল হওয়ায় ঢেউয়ের মতো নাচতে থাকে টটেনহ্যাম। দুই গোল করা সনের গলায় তখন খুশির জোয়ার, ‘এমনটা আমি কোনোদিন দেখিনি। খুব কঠিন একটা ম্যাচ। পাগল করা একটা ম্যাচ। সতীর্থদের নিয়ে আমি খুব গর্বিত।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত