নৌকার ‘মিছিলে যাওয়ায়’ দুই ছাত্রকে ছাড়পত্র

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ০৪:২৯ এএম

গলাচিপায় উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর মিছিলে যোগ দেওয়ায় দুই ছাত্রকে বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র (টিসি) দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রিজভী চৌধুরী এ ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন। তিনি খারিজ্জমা ইসাহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহানের স্বামী। অপরদিকে প্রধান শিক্ষক নুসরাতের দাবি, দুই ছাত্রকে নয়, ছাত্রীদের  উত্ত্যক্ত, মাদক সেবন ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে একজনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

খারিজ্জমা ইসাহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র রেজাউল করিম মৃধা ও বাণিজ্য বিভাগের শুভকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা। তবে শুভকে ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক। ভুক্তভোগীরা জানায়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গলাচিপা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ওই বিদ্যালয়ের প্রায় ২৫ শিক্ষার্থী নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর মিছিলে অংশ নেয়। এ ঘটনায় রিজভীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের একটি অংশ তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। এরপরই শুভকে ফোনে গালমন্দ, হুমকি, বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করে কলাগাছিয়া গ্রামের সজল চৌধুরী, সজীব চৌধুরী ও বাইজিদ চৌধুরীসহ আরও ৫-৬ জন।

শিক্ষার্থী রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলে, ‘গত ২৪ মার্চ স্কুল ছুটির পর বিকেল ৫টায় আমরা মিছিলে যোগ দেই। অসুস্থ থাকায় পরদিন স্কুলে যাইনি। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে স্কুলে গেলে ছাড়পত্র দেওয়ার হুমকি দেন প্রধান শিক্ষক। পরদিন সকালে তিনি ছাড়পত্র ধরিয়ে দেন। এ সময় বলেন, আওয়ামী লীগের মিছিলে যাও? নৌকার মিছিলে যাও?’

একই অভিযোগে শুভকেও ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানায় রেজাউল। সে জানায়, এ ঘটনার পর ২০-২৫ শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে এলে তাদের ছাড়পত্র দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে বাধ্য করা হয়। সাদা কাগজে তাদের স্বাক্ষরও নেওয়া হয়। রেজাউল ও শুভ জানায়, বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের জানানোর পর তাদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

ছাড়পত্রের বিষয়ে খারিজ্জমা ইসাহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহান বলেন, ‘ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা, মাদক সেবন, পরীক্ষায় অসদুপায়ে বাধা দেওয়ায় খাতা ছিঁড়ে শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মতো নানা অভিযোগ রয়েছে রেজাউলের বিরুদ্ধে। তাকে একাধিকবার মৌখিকভাবে সংশোধন হতে বলা হয়।’ শুভকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুভর অভিভাবকদের বিদ্যালয়ে ডাকা হয়েছে। কিন্তু তারা আসেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘রেজাউলকে ছাড়পত্র দেওয়ার পরদিন উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে রিজভীর ওপর এরা হামলা চালায়। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ অভিযোগ (জিডি) করা হয়েছে।’ গলাচিপা থানার ওসি আখতার মোর্শেদ বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে রিজভীর ওপর হামলার ঘটনায় জিডি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী জড়িত নয়।

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়টির গ্রন্থাগারিক রিজভী চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক। নৌকার মিছিলে যেতে বাধা দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। বিএনপির একটি চক্র আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে এসব প্রোপাগান্ডা ও মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিপথগামী করছে। সামাজিকতার কারণে তাদের বিরুদ্ধে শক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।’ তার বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে সম্মানহানিকর কিছু লেখা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে রিজভী বলেন, পটুয়াখালী-৩ আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য (প্রয়াত) তার বাবা। বড় ভাই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। ওই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এসএম শাহজাহান সাজু ও নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন শাহ তার বন্ধু বলেও পরিচয় দেন রিজভী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গলাচিপা উপজেলার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা শাহীন শাহ বলেন, ‘তারা সবাই আমার নির্বাচন করেছে। বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছি। এরপরও আবার কী হয়েছে তা জানি না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত