বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে পাচারকৃত অর্থ বিদেশে বিনিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগের প্রমাণ পেলে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে দুদকের একটি অনুসন্ধান দল কাজ করেছে। দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ব্রিটেনে ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (এফআইইউ) জব্দ করা তিনটি ব্যাংক হিসাবের টাকা পাচারকৃত প্রমাণ হলে তারেক রহমান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করা হবে।’
লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদার নামে যুক্তরাজ্যের স্যানটান্ডার ব্যাংকের তিনটি হিসাব জব্দে (ফ্রিজ) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আদেশ দিয়েছে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গত বুধবার এ আদেশ দিলেও বৃহস্পতিবার তা প্রকাশ হয়। খুরশীদ আলম বলেন, ‘দেশে অথবা দেশের বাইরে মানি লন্ডারিং সম্পর্কিত কোনো অর্থ থাকলে তা ফেরত আনতে আদেশ দিতে পারে আদালত। আদালত যদি আদেশ দেয় তাহলে আমরা টাকা উদ্ধার করতে পারব।’
এ বিষয়ে অর্থনীতিবীদ ইব্রাহীম খালিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ অর্থ চূড়ান্তভাবে পেতে আদালতের নির্দেশই যথেষ্ট নয়, আইনি প্রক্রিয়া গতিশীল করতে হবে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে আর আইনি প্রক্রিয়া গতিশীল হলে দ্রুত এই টাকা ফেরত আনা সম্ভব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সহায়তা না করলে আমাদের দেশ থেকে একটি টাকাও কেউ নিতে পারবে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বড় বিষয় হচ্ছে সমস্যা চিহ্নিতকরণ। এটা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি টিম কাজ করে।’
এর আগে দুই দেশের বিচারপ্রক্রিয়া আর দেনদরবার শেষে ২০১২ সালের নভেম্বরে দেশে প্রথমবারের মতো তারেক রহমানের ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর ব্যাংক হিসাবে পাচার হওয়া প্রায় সাড়ে ২০ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার ফেরত আনে দুদক। পরের বছর জানুয়ারিতে ওই টাকার লভ্যাংশ ২৩ হাজার ৮০০ সিঙ্গাপুরি ডলারও ফেরত পায় বাংলাদেশ। এছাড়া অর্থপাচার মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খানের নামে হংকংয়ের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের হিসাবে ১৬ মিলিয়ন হংকং ডলার হাইকোর্টের আদেশে ফ্রিজ করা হয়। বিচারিক আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ফের আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। বর্তমানে তা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।
দুদকের এক আইনজীবী বলেন, যুক্তরাজ্যের স্যানটান্ডার ব্যাংকে বাংলাদেশ থেকে সন্দেহজনক লেনদেনের কারণে তারেক ও জোবাইদার তিনটি ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে ব্রিটেনের এফআইইউ। ওই তিনটি হিসাবে প্রায় ৬০ হাজার পাউন্ড বাংলাদেশে থেকে পাচার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ টাকা বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে আনতে অর্থপাচার আইনে বাংলাদেশের আদালতের আদেশ মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্সির মাধ্যমে পৌঁছানো হবে স্যানটান্ডার ব্যাংকের সিইওর কাছে। এছাড়া এ অর্থ পাচারের বিষয়টি প্রমাণিত হলে ফেরত আনার প্রক্রিয়ায় ভূমিকা নেবেন দুই দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল। ততদিন পর্যন্ত তিনটি হিসাবের লেনদেন স্থগিত থাকবে।
এ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে উপপরিচালক আখতার হামিদ ভূঁইয়ার নেতৃত্বে অনুসন্ধান করছে দুদকের অনুসন্ধান দল। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, স্যানটান্ডার ব্যাংক ইউকে পিএলসি পরিচালিত হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু কনসালট্যান্ট লিমিটেডে তারেক ও জোবাইদার তিনটি ব্যাংক হিসাবে ৫৯ হাজার ৩৪১ দশমিক ৯৩ ব্রিটিশ পাউন্ড স্থানান্তর এফআইইউ, ইউকের নির্দেশে আটক আছে। ওই অর্থের বিষয়ে এখনই কোনো ব্যবস্থা না নিলে তা বেহাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে দুদক। সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের যুক্তরাজ্যে তিনটি ব্যাংক হিসাব জব্দে আদালতের দেওয়া আদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারের আম্বর শাহ শাহী মসজিদের নিচতলার সংস্কার কাজ উদ্বোধনের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবাইদা রহমানের নামে যুক্তরাজ্যের ব্যাংকে থাকা তিনটি হিসাব জব্দের আদেশ দিয়েছে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক ইমরুল কায়েশ গত বুধবার এ আদেশ দিলেও বৃহস্পতিবার তা প্রকাশ হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশে পুলিশের কর্মকাণ্ড ইন্টারপোলের মাধ্যমে হয়। তাই তারেক রহমান ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দের যে আদেশ আদালত দিয়েছেন, তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’
সাম্প্রতিক চীন সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘চীনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অনেক বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমাদের কী সমস্যা রয়েছে তা নিয়েও আলোচনা করেছি।’
আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে দেশটিতে ফেরত পাঠাতে চীন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে আশ্বস্ত করেছে। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ট্রেনিং ও ফায়ার ইক্যুইপমেন্টে সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছে চীন। এছাড়া মিয়ানমারের সঙ্গে যেসব বিষয়ে সমস্যা রয়েছে, তা সমাধানেও দেশটি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’
