ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল আবাহনী লিমিটেড। রোববার সাভারের বিকেএসপিতে রূপগঞ্জকে ১০২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
সুপার লিগের ম্যাচটিতে আগে ব্যাট করতে নেমে সৌম্য সরকারের সেঞ্চুরি, জহুরুল ইসলাম অমি ও মোহাম্মদ মিঠুনের ফিফটিতে ৭ উইকেটে ৩৭৭ রানের স্কোর গড়ে আবাহনী। জবাবে ৭ উইকেটে ২৫৭ রানে থেমেছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ।
ফলে ১৫ ম্যাচে ১২ জয়ে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে এখন শীর্ষে আবাহনী। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়েও আবাহনীর চেয়ে নেট রানরেটে বেশ পিছিয়ে থাকায় দ্বিতীয় স্থানে রূপগঞ্জ। এখন যা সমীকরণ দাঁড়াল তাতে শেষ রাউন্ডে আবাহনী ও রূপগঞ্জ নিজ নিজ ম্যাচে জয় পেলেও শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে থাকবে আবাহনী। যদি আবাহনী হেরে যায় আর রূপগঞ্জ জিতে যায় তবে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে রূপগঞ্জ। অর্থাৎ আবাহনীর চ্যাম্পিয়ন ভাগ্য এখন নিজেদের হাতেই।
অথচ এদিন রূপগঞ্জ জয় পেলেই এক রাউন্ড বাকি থাকতেই শিরোপা নিজেদের করে নিত। লিগ পর্বে আবাহনীকে হারানো ও দুই পয়েন্ট এগিয়ে থাকায় মানসিকভাবে চাঙাও ছিল রূপগঞ্জ। মাঠে অবশ্য আবাহনীর প্রমাণ করেছে বড় ম্যাচে সব সময়ই ফেবারিট তারা।
পুরো আসরে ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া সৌম্য সরকার এদিন বিস্ফোরক সেঞ্চুরি করলেন। ৭৯ বলে ১৫ চার ও ২ ছক্কায় করেন ১০৬ রান। আরেক ওপেনার জহুরুল ইসলাম ৮৩ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় করেন ৭৫ রান। ওয়াসিম জাফর করেন ৪৬ রান। মোহাম্মদ মিঠুন ৩৪ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ৬৪ রান করেন। রূপগঞ্জের পক্ষে তাসকিন আহমেদ ও মোহাম্মদ শহিদ নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।
রূপগঞ্জের পক্ষে অপরাজিত সেঞ্চুরিতেও দলকে জেতাতে পারেননি মোহাম্মদ নাঈম। কারণ মোহাম্মদ শহিদ ছাড়া আর কেউই তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি। নাঈম ১৩৫ বলে ১৩ চার ও ২ ছক্কায় ১২৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। শহিদ ৪৭ বলে ৪টি করে চার ও ছক্কায় ৫৩ রান করেন। তাসকিন অপরাজিত ছিলেন ২৫ রানে। আবাহনীর পক্ষে সর্বাধিক ৩ উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
এ ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেও একটি বিশ্ব রেকর্ডে নিজের নাম লিখেছেন রূপগঞ্জের মুমিনুল হক। ব্যাট হাতে চার রান করলেও ফিল্ডিংয়ে নিয়েছেন ৫টি ক্যাচ। লিস্ট এ ক্রিকেটে যা সর্বোচ্চ। মুমিনুল সহ বিশ্বের মোট ১৬ জনের রয়েছে এই কীর্তি। মুমিনুল ছাড়াও বাংলাদেশের পক্ষে ফরহাদ হোসেনেরও রয়েছেন এই কীর্তি।
