শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে রাখল বাংলাদেশের মেয়েরা। সিরাত জাহান স্বপ্নার পর গোল করলেন আরেক ফরোয়ার্ড কৃষ্ণা রানী সরকার। তাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই ম্যাচ নিজেদের মুঠোয় চলে আসে বাংলাদেশের। দ্বিতীয়ার্ধেও দাপিয়ে খেলল স্বাগতিকেরা। কিন্তু একের পর এক সুযোগ হাত ছাড়া হওয়ায় ব্যবধানটা আর বড় হয়নি।
সোমবার বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী আন্তর্জাতিক গোল্ড কাপ ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচে আরব আমিরাতকে ২-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। এই জয়ে এক ম্যাচ হাতে থাকতেই ‘বি’ গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালে ওঠার সমীকরণটা সহজ করে রাখল গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা।
বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে শুরু হওয়া ম্যাচটিতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলেছে বাংলাদেশ। কিক অফেই সংঘবদ্ধ আক্রমণে যায় বাংলাদেশ। যদিও অফসাইটের কারণে সেটি ভেস্তে যায়।
শুরুতে অফ সাইটের কারণে বেশ কটি আক্রমণ বৃথা যায় বাংলাদেশের। তবে ১২ মিনিটে ডিফেন্ডার আঁখি খাতুনের লম্বা করে বাড়ানো বল অফ সাইডের ফাঁদ ভেঙে দারুণ দক্ষতায় জালে জড়ান সিরাত জাহান স্বপ্না।
১৭ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হারায় বাংলাদেশ। গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল জালে জড়াতে পারেননি স্বপ্না। ৩০ মিনিটে কর্নার কিক থেকে উড়ে আসা বল হেড থেকে জালে জড়ান কৃষ্ণা। অবশ্য কৃষ্ণার হেডের পর গোল লাইনে মৌসুমীও মাথা ছোঁয়ানোর চেষ্টা করেন। তবে কৃষ্ণার গোল হিসেবেই কাউন্ট হয়েছে সেটি।
বাংলাদেশ এ ম্যাচে একাদশ গড়েছে ৫ ডিফেন্ডার, তিন মিডফিল্ডার, দুই ফরোয়ার্ড নিয়ে। শুরুর একাদশে জায়গা হয়নি রক্ষণের অন্যতম তারকা মাসুরা পারভীনের। অধিনায়ক মৌসুমীকে এ ম্যাচে ডিফেন্ডার হিসেবে রাখা হলেও সারা মাঠ জুড়ে খেলেছেন তিনি। বলা যায় বাংলাদেশের আক্রমণগুলোর প্রাণ ভোমরা ছিলেন তিনি। তবে ফরোয়ার্ড সানজিদা ছিলেন নিষ্প্রভ।
ডিফেন্সের শামসুন্নাহার, আঁখি খাতুন দুজনই ওভার ল্যাপ করে উপরে ওঠে খেলেন। আঁখি রক্ষণে স্থির থাকলেও শামসুন্নার বারবার প্রতিপক্ষের রক্ষণ কাঁপিয়েছেন। দূরপাল্লার শটে আঁখিও অবশ্য ত্রাস হয়ে উঠেছিলেন প্রতিপক্ষের।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের খেলায় ছিল না তেমন পরিকল্পনার ছাপ। এলোমেলো খেলায় একাধিক সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের।
৭০ মিনিটে সানজিদাকে তুলে নিয়ে মার্জিয়াকে মাঠে নামান বাংলাদেশ কোচ। এর ৬ মিনিট পরই মার্জিয়ার ক্রস থেকে সহজ সুযোগ হাত ছাড়া করেন স্বপ্না। বাংলাদেশকে প্রথম লিড এনে দেওয়া এই ফরোয়ার্ডকে ৮০ মিনিটে তুলে নিয়ে সাজেদাকে মাঠে নামানো হয়। পরের মিনিটে মারিয়া মান্ডাকে তুলে মাঠে নামানো হয় ইসরাত জাহান রত্নাকে।
তারপরও অবশ্য খেলার ধারায় পরিবর্তন আসেনি। গোলমুখে গিয়ে গুলিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে আরব আমিরাত মোটেও বাংলাদেশকে পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। ম্যাচ জুড়ে তেমন কোনো আক্রমণও তারা করতে পারেনি।
বাংলাদেশ এই জায়গাটায় সফলই বলতে হবে। তবে ট্রফি ঘরে রেখে দেওয়ার যে স্বপ্ন তাদের, সে জন্য নিশ্চিতভাবেই নিজেদের খেলায় উন্নতির বিকল্প নেই।
বাংলাদেশ একাদশ:
রূপনা চাকমা (গোলরক্ষক), শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, নার্গিস খাতুন, মনিকা চাকমা, সানজিদা আক্তার (মার্জিয়া), মিসরাত জাহান মৌসুমী (অধিনায়ক), সিরাত জাহান স্বপ্না (সাজেদা খাতুন), কৃষ্ণা রানী সরকার, মারিয়া মান্ডা (ইসরাত জাহান রত্না), আঁখি খাতুন।
