ডাক বিভাগের চালু করা ‘নগদ’ নামের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছে চীনের আলীবাবা গ্রুপসহ বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) এবং মিলিন্ডা অ্যান্ড গেটস ফাউন্ডেশন। দেশে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশে বিনিয়োগকারী এসব বহুজাতিক সংস্থা অভিযোগ করে বলেছে, বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা অন্য কোম্পানিগুলোর চেয়ে আর্থিক লেনদেনে অনেক বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে নগদ। নগদের সুবিধা কমিয়ে সব কোম্পানির জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে বলেছে সংস্থাগুলো।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ-বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলামের কাছে আপত্তি জানিয়ে চিঠি দিয়েছে আলীবাবা গ্রুপ, আইএফসি এবং এবং মিলিন্ডা অ্যান্ড গেটস ফাউন্ডেশন। তাদের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. ফজলে কবিরসহ সংশ্লিষ্টদের চিঠি দিয়েছে বিডা।
বিডার নির্বাহী সদস্য ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব মো. জাহিদুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রচলিত অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের মতো একই ধরনের গ্রাহক সেবা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচলিত বাংলাদেশ মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) রেগুলেশনস ২০১৮ অনুযায়ী বিকাশসহ অন্যান্য আর্থিক সার্ভিসে প্রতিদিন ১৫ হাজার টাকা জমা দেওয়া ও ১০ হাজার টাকা নগদ উত্তোলনের সীমা রয়েছে। কিন্তু নগদ ডিজিটাল সার্ভিসে এই লেনদেনের পরিমাণ আড়াই লাখ টাকা, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার পরিপন্থী। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘গত আট বছর যাবৎ এমএফএস রেগুলেশনস ২০১৮ অনুসরণপূর্বক বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান মোবাইল আর্থিক সার্ভিসের মাধ্যমে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বিদ্যমান সার্ভিসগুলো থেকে আলোচ্য ‘নগদ’ ডিজিটাল আর্থিক সার্ভিসটির জমা ও উত্তোলনের সীমা অধিকতর হওয়ায় তা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রক্ষা করছে না। তাছাড়াও একটি এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) ব্যবহার করে একাধিক হিসাব খোলার সুযোগ থাকায় তা মানি লন্ডারিংসহ বিভিন্নভাবে অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।’
মো. জাহিদুর রহমান আরও লিখেছেন, মোবাইল আর্থিক সেবায় বিকাশ লিমিটেডে বিশ্বব্যাংকের আইএফসি ও যৌথভাবে বিনিয়োগকারী মিলিন্ডা অ্যান্ড গেটস ফাউন্ডেশন, আলীবাবা গ্রুপ বাংলাদেশ ডাক অধিদপ্তরের নগদ ডিজিটাল আর্থিক সার্ভিসটির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী অন্যান্য তফসিলি ব্যাংকের অধীনে সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের মতো নগদ সার্ভিসের অর্থ জমা ও উত্তোলন সীমা, একটি এনআইডির বিপরীতে একটি হিসাব খোলাসহ মানি লন্ডারিং ও অন্যান্য অপব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেছে বিডা।
বাংলাদেশ ডাক অধিদপ্তর থার্ড ওয়েব টেকনোলজিস লিমিটেডের সঙ্গে যৌথভাবে নগদ সার্ভিস চালু করেছে। গত ২৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে নগদ-এর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ডাক বিভাগ তখন জানায়, তৃণমূলের ব্যাংকিং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের বৈধ সুবিধা দিতে ডাক বিভাগ এই সার্ভিস চালু করেছে। এই সার্ভিসের মাধ্যমে যে কেউ কম খরচে দ্রুত ও নিরাপদে আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন। নগদের লেনদেন সীমা নিয়ে আপত্তি রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকেরও। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে ও এজেন্ট পয়েন্টের মাধ্যমে ব্যাংকিং ও রেমিট্যান্স সেবা দেওয়া হলে অবশ্যই তাদের অনুমোদন নেওয়ার আবশ্যকতা রয়েছে। তবে ডাক বিভাগ বলছে, পোস্ট অফিস আইনে এ ধরনের সেবা দেওয়ার সুযোগ তাদের রয়েছে।
