লোকসভার নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ টেনে প্রতিদ্বন্দ্বী দল কংগ্রেস সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উদাসীন দাবি করে এ ক্ষেত্রে নিজের গুণগান করে জনতার কাছে ভোট চেয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রতিবেশী দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় চার্চ ও বিলাসবহুল হোটেলে ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণে ২৯০ জনের প্রাণহানির ঘটনার পরদিন মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলায় এক জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর।
এক দশক আগে গুজরাট, মুম্বাই ও পুনের বোমা হামলার দিকে ইঙ্গিত করে মোদি বলেন, ২০১৪ সালের আগে ভারতের পরিস্থিতি কী ছিল-প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো প্রান্তে বিস্ফোরণ ঘটত। ‘পাকিস্তানের মদদে সংঘটিত’ ওই সব হামলায় কংগ্রেস সরকারের পাল্টা জবাব খুব দুর্বল ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, দলটি শুধু মায়াকান্না করতে জানে। ‘কংগ্রেস ও এনসিপি শুধু শোকসভা করেছে এবং বিশ্বদরবারে পাকিস্তানকে নিয়ে শোরগোল তুলেছে।’
কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এ পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে দাবি করে মোদি বলেন, ‘এই চৌকিদার ক্ষমতা পাওয়ার পর পাকিস্তানে সন্ত্রাসের কারখানায় হামলা করা হয়েছে। এর ফলে এখন জম্মু ও কাশ্মীরের কয়েকটা এলাকা ছাড়া আর কোথাও সন্ত্রাস নেই। এখন প্রতিদিনই আমাদের বাহিনীর হাতে তাদের কারও মৃত্যু হচ্ছে।’
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার শ্রীলঙ্কায় হামলার পরপরই রাজস্থানের চিতোরগড়ে জনসভায়ও হামলার ঘটনা উল্লেখ করে ভোট চান মোদি। তিনি বলন, ‘পড়শি দেশে সন্ত্রাসবাদীরা গির্জা ও হোটেলে বোমা হামলা করেছে। পুরো বিশ্ব ইস্টারের পবিত্র পর্ব পালন করছে, প্রভু যিশুর শান্তির বার্তা আত্মস্থ করতে পূজা পাঠ করছে, সেই সময় নরাধম সন্ত্রাসবাদীরা শত শত নির্দোষ মানুষের ওপর রক্তের খেলা খেলল। সংকটের মুহূর্তে ভারত শ্রীলঙ্কার পাশে রয়েছে পুরো শক্তিতে।’
এরপর এক নিঃশ্বাসে প্রধানমন্ত্রী বলে চলেন, ‘ভাই ও বোনেরা, আপনারা যখন পদ্মচিহ্নে ভোট দেবেন, মনে রাখবেন, এই সন্ত্রাসবাদ খতম করার জন্য বোতাম টিপছেন আপনারা। আপনার আঙুলে শক্তি আছে। আপনি পদ্মে ভোট দেবেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমার লড়াইয়ে শক্তি আসবে। বলুন, এই সন্ত্রাসবাদ কে খতম করতে পারে? মোদি ছাড়া আর কোনো নাম দেখছেন আপনারা? আর কেউ করতে পারে। ফলে যখন ভোট দেবেন, বীর সৈনিকের মতো সচেতন থাকা উচিত। দেশের জন্য ভোট দিলে সেই ভোট মোদির কাছে যাবে।’
ইস্টার সানডের প্রার্থনার মধ্যে গত রবিবার শ্রীলঙ্কায় গির্জা ও হোটেল মিলিয়ে আটটি স্থানে বোমা হামলায় সব শেষ খবর পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৯০ হয়েছে। হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি অভিযান চলছে। ২৪ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা শ্রীলঙ্কার নাগরিক। এই হামলার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকলেও দেশটির সরকার পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব করেছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর।
