দেশ রূপান্তরকে জেনারেল (অব.) ইবরাহিম

বাংলাদেশ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় নিরাপদ

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ০২:৫৬ এএম

বিশ্বের কিছু কিছু দেশের নেতার কর্মকাণ্ড ও নেতিবাচক বক্তব্যের মাধ্যমে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে যে দুনিয়াজুড়ে ব্যাপক উন্মাদনা বাড়ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বর্তমানে পৃথিবীজুড়ে দুটি গোষ্ঠী বিদ্যমান। একটি পক্ষ চায় সংঘাত-উন্মাদনার মাধ্যমে স্বার্থ হাসিল, অন্য পক্ষটি চায় শান্তি। বৈশ্বিক রাজনীতির প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, উন্মাদনা সৃষ্টিকারী পক্ষটি ব্যাপকভাবে শক্তিশালী। যাদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বিভাগ পর্যন্ত জড়িত থাকে। ফলে শান্তিকামী পক্ষটি দারুণভাবে ক্ষতি বা হুমকির মুখে পড়েছে।

শ্রীলঙ্কায় যে ঘটনাটি ঘটল এ ব্যাপারে দেশটির সরকার সচেতন ছিল না বলেই প্রতীয়মান হয়। পূর্ব সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও তারা কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। মনে রাখা উচিত ছিল মাত্র ৯ বছর আগে তাদের দেশের গৃহযুদ্ধ শেষ হয়েছে। ফলে সেখানে বিবদমান অনেক পক্ষ রয়েছে। আরও সহজ করে বললে অস্ত্র জমা দিয়েছি কিন্তু ট্রেনিং জমা দেইনি। ফলে কোনোভাবেই বিষয়টি সহজ করে দেখা উচিত হয়নি। হামলার ঘটনায় এখন যে মুসলিম সংগঠনকে দায়ী করা হচ্ছে এতদিন আমরা তাদের নাম পর্যন্ত শুনিনি। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কায় মুসলিমদের সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ কিংবা অন্য ধর্মীয় গোষ্ঠীর কোনো সংঘাতের কথাও শোনা যায়নি। তবে আজ হঠাৎ করে তারা সামনে আসায় অনেকটা বিভ্রান্তিতে পড়েছে বিশ্ব। আমাদের মনে রাখতে হবে যখন একটি দেশে এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে সেখানে অবশ্যই দুটি সমস্যা থাকে। এর একটি স্থানীয়, অন্যটি আন্তর্জাতিক। তবে এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সমস্যা জানতে না পারায় ধোঁয়াশা কাটছে না। ভবিষ্যতেও হামলার সঠিক কারণ জানা যাবে কি না সে ব্যাপারে সন্দেহ আছে।

বিশ্বায়নের এ যুগে একলা চলা নীতি অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। মনে রাখতে হবে, শান্তির ধর্ম হিসেবে ইসলাম সন্ত্রাসের আশ্রয় দেয় না। বিশ্বজুড়ে ইসলামি সন্ত্রাসবাদের যেসব কথা বলা হয় তাতে আমরা ব্যথিত হই। যদিওবা এর সবকিছু নিয়ে অনেক বিতর্কও আছে। তবে বিশ্বের সকল শান্তিবাদী পক্ষকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুগপৎ কর্মরেখা তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে এ ব্যাপারে বড় করে ভাবতে হবে। এ অঞ্চলের দুটি বড় দেশের মধ্যে ক্রমাগত শত্রুতা বাড়ছে। কাশ্মীর বারবার জ্বলে উঠছে। দক্ষিণ-পূর্ব ভারতেও একই সমস্যা আছে। এ ছাড়া মিয়ানমারেও জাতিগত বৈষম্য বাড়ছে। এসব ঘটনা বাংলাদেশের জন্যও মাথাব্যথার কারণ। যদিওবা আমি মনে করি আমাদের দেশ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় নিরাপদ। আমি রাজনৈতিকভাবে বিরোধী পক্ষের হলেও সন্ত্রাসবাদের ব্যাপারে সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করি।

আবারও বলছি বিশ্বের কিছু কিছু নেতার কারণে দুনিয়ার সাধারণ জনতা ভীতির মধ্যে বাস করছে। প্রতিবেশী ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতারা যেসব কথা বলেন, তার ভীতি ছড়িয়ে পড়ে অনেক অনেক দূর পর্যন্ত। মানুষ যখন রাজনৈতিক পক্ষের ওপর আস্থা হারায় তখন মারাত্মক সিদ্ধান্ত নিয়ে বসতে পারে। আর এর সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে আন্তর্জাতিক চক্র। শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, বলা হচ্ছে, কোনো এক দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল তাওহিদ জামাত যে হামলা করতে পারে এ ব্যাপারে সতর্ক করেছিল। এসব ক্ষেত্রে এমনও ঘটনা ঘটে যে তারা চোরকে বলে চুরি করতে আর মালিককে বলে সজাগ থাকতে। শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে এ ঘটনা হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

ইদানীং দক্ষিণ এশিয়ায় হামলার ব্যাপারে মার্কিন গোয়েন্দারা বেশ সতর্ক করছে। গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সক্ষমতার অভাব আছে অনেক। তবে তথ্য লেনদেনের ক্ষেত্রে সিআইএ, মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার ক্ষেত্রে উপকারও আছে অপকারও আছে। কারণ এ সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ হচ্ছে, তারা হামলাকারীদের উৎসাহিত করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত