সৌম্যর দ্বিশতকে আবাহনী চ্যাম্পিয়ন

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ০১:৪৩ এএম

ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে অনেক ক্লাবই খেলে কিন্তু শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয় আবাহনী লিমিটেড। গতকাল লিগের শেষ ম্যাচ জিতে ২০১৮-১৯ মৌসুমের শিরোপাও ঘরে তুলল ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। এ নিয়ে ৪২ আসরের মধ্যে ২০ বারই আবাহনী হলো চ্যাম্পিয়ন। গেলবারও শিরোপা জিতেছিল তারা। টানা দ্বিতীয় মৌসুমে রানার্সআপ হয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। সুপার লিগে অপরাজিত থেকে শেষ করেছে আবাহনী।

আবাহনী প্রায় জাতীয় দল। আর সেই দলের সৌম্য সরকার শেষ দুই ম্যাচে অসাধারণ ফর্ম দেখালেন। এই ওপেনার গতকাল বিকেএসপিতে রেকর্ড গড়া অপরাজিত ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব তানবীর হায়দারের অপরাজিত ১৩২ রানের ওপর দাঁড়িয়ে ৯ উইকেটে ৩১৭ রান তুলেছিল। জবাবে ৪৭.১ ওভারে বড় টার্গেট পেরিয়ে ১ উইকেটেই ৩১৯ রান তুলেছে আবাহনী। ৯ উইকেটের জয়।

বিকেএসপিতে আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকানো সৌম্য সবাইকে ছাপিয়ে এবার আরও উজ্জ্বল। লিগে রান পাচ্ছিলেন না। শেষে এসে সব পুষিয়ে দিলেন চোখধাঁধানো ব্যাটিংয়ে। গতকাল শেখ জামালের বোলিং লাইনআপ তিনি গুঁড়িয়ে দিয়েছেন লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে। দীর্ঘকায় বাঁহাতি ওপেনার ১৫৩ বলে ১৪ চার ও ১৬টি ছক্কায় হার না মানা ২০৮ রানের ইনিংস খেলেছেন। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট ইতিহাসের মাত্র ২৯তম দ্বিশতক এটি। ২০১৭ সালে রকিবুল হাসানের রেকর্ড ১৯০ রানের ইনিংস টপকেছেন সৌম্য। বাংলাদেশের যেকোনো পর্যায়ের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডও গড়েছেন। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে আগের রেকর্ড ১১ ছক্কায়ও অবশ্য যৌথ অংশীদারিত্বে তার নামও ছিল। জহুরুল ইসলামের (১০০) সঙ্গে সৌম্যর উদ্বোধনী জুটিতে এসেছে ৩১২ রান। যেকোনো উইকেটে এটি রেকর্ড। ভেঙেছে আগের ২৯০ রানের জুটি।

২০১২ সালে এসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে কুয়েতের বিপক্ষে ১৩৫ বলে ২০৯ করেছিলেন সৌম্য। সিনিয়র পর্যায়ের ক্রিকেটে এটা তার প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি। প্রথম পঞ্চাশ রান করতে সৌম্য খেলেছেন ৫২ বল। ঝড়োগতিতে ছুটেছেন তারপর থেকে। ৭৮ বলে সেঞ্চুরির পর ১৫০ করেছেন ১০৪ বলে। ১৪৯ বলে হয়েছে দ্বিশতক। ছক্কা ঝড়টা সবচেয়ে বেশি গেছে তাইজুল ইসলামের ওপর দিয়ে। বাঁহাতি স্পিনারকে ৬টি ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন সৌম্য। ৪ ছক্কার শিকার মিনহাজুল আবেদিন আফ্রিদি।

১৭ বল বাকি থাকতে খেলা শেষ। সুযোগ থাকলে সৌম্যর ইনিংসটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াত কে জানে! লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসটা অ্যালি ব্রাউনের। ২০০২ সালে ২৬৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। সৌম্যর ২০৮-এর চেয়ে বড় ইনিংস আছে আর মোটে ১৪টি।

রূপগঞ্জ সুপার লিগে উঠেছিল আবাহনীর চেয়ে ৪ পয়েন্ট বেশি নিয়ে। কিন্তু আবাহনী ও শেখ জামালের কাছে এই পর্বে হেরেছে। গতকাল শেষ ম্যাচে জিতেছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। আবাহনী ও রূপগঞ্জ লিগ শেষ করল ১৬ ম্যাচে সমান ২৬ পয়েন্ট নিয়ে। কিন্তু নেট রানরেটে আবাহনী (০.৮৬৬) রূপগঞ্জের (০.৫১৭) চেয়ে এগিয়ে থেকে শিরোপা ধরে রাখল। এদিন প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব হারিয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে। দোলেশ্বর ২০ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয়, শেখ জামাল ১৮ পয়েন্টে চতুর্থ, প্রাইম ব্যাংক ১৬ পয়েন্টে পঞ্চম ও মোহামেডান ১৪ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ হয়ে লিগ শেষ করেছে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

আবাহনী-শেখ জামাল

শেখ জামাল : ৩১৭/৯ (৫০ ওভার) (তানবীর ১৩২*, ইলিয়াস সানি ৪৫; মাশরাফী ৪/৫৬)। আবাহনী : ৩১৯/১ (৪৭.১ ওভার) (সৌম্য ২০৮*, জহুরুল ১০০)। ফল : আবাহনী ৯ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা : সৌম্য সরকার।

রূপগঞ্জ-প্রাইম ব্যাংক

রূপগঞ্জ : ৩২৭/৪ (৫০ ওভার) (নাঈম ১৩৬, মুমিনুল ৫২; নাঈম হাসান ১/৫৩)। প্রাইম ব্যাংক : ২৩৯ (৪২.১ ওভার) (নাহিদুল ৭৪; শহীদ ৪/২২)। ফল : রূপগঞ্জ ৮৮ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা : মোহাম্মদ নাঈম।

মোহামেডান-প্রাইম দোলেশ্বর

দোলেশ্বর : ২৭৪/৬ (৫০ ওভার) (ফরহাদ হোসেন ৮৯, সৈকত ৬৫; শফিউল ২/৩৯)। মোহামেডান : ২৭১/৯ (৫০ ওভার) (আশরাফুল ৭৬; তাইবুর ৩/৩৪)। ফল : প্রাইম দোলেশ্বর ৩ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা : ফরহাদ হোসেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত