প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের আঙুলের ছাপ পুলিশের কাছে সংরক্ষিত থাকায় তাদের ভোটার হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নতুন ভোটার তালিকা তৈরি হচ্ছে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে। সুতরাং পরিচয় গোপন রেখে ভোটার হওয়ার সুযোগ নেই। গতকাল মঙ্গলবার রাজবাড়ীতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি উদ্বোধন করে তিনি এসব কথা বলেন।
গতকাল থেকে প্রথম ধাপে সারা দেশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃত ‘হিজড়া’ জনগোষ্ঠীর সদস্যরা এবার প্রথমবারের মতো স্বনামে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত উপজেলাগুলোতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। দেশ রূপান্তরের
প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে বিস্তারিত।
রাজবাড়ী
দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে সিইসি বলেন, ‘একজন ব্যক্তি একবারই ভোটার হতে পারবেন। ভুল তথ্য বা আঙুলের ছাপ দিয়ে দ্বিতীয় বার কেউ ভোটার হতে পারবে না। আগে এক ব্যক্তি একাধিক জায়গায় ভোটার হতে পারত কিন্তু এখন সে সুযোগ নেই।’ তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৯৯ শতাংশ ভোট পড়লেও উপজেলা পরিষদে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি অংশ না নেওয়ায় ভোটার উপস্থিতি কম ছিল। তবে এই নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেনি।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফরিদপুরের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান তালুকদার। রাজবাড়ী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফকীর আব্দুল জব্বার, পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বিপিএম, সিভিল সার্জন ডা. মো. রহিম বকস, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌরসভার মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসময় সেখানে ছিলেন।
সাভার
দুপুরে সাভার উপজেলা হলরুমে নির্বাচন কমিশনার শাহাদত হোসেন চৌধুরী বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে হিজড়া সম্প্রদায় তাদের পরিপূর্ণ অধিকার পেতে যাচ্ছে। এতে করে তাদের নাগরিক দায়িত্ববোধ আরও বেড়ে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ঢাকা অঞ্চলের নির্বাচন কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মণ্ডল। অনুষ্ঠানে হিজড়া সম্প্রদায়ের কয়েক জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)
নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ভোটার তথ্য সংগ্রহকারীদের উদ্দেশে বলেন, ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করা সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ দায়িত্বে অবহেলা করা রাষ্ট্রদোহিতার সমান। সুতরাং তথ্য সংগ্রহকারীদের কেউ দায়িত্বে অবহেলা করবেন না। সঠিক, নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবেন। গতকাল বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের উদ্বোধন করে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী ও সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মো. মফিজ উদ্দিন। জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।
সিলেট
সিলেটে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা। তাই ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে করতে হবে। মৃত কেউ যাতে তালিকায় না থাকে এবং ভোটার হওয়ার যোগ্য কেউ যাতে বাদ না পড়ে সে ব্যপারে সংশ্লিষ্টদের খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি হিজড়া জনগোষ্ঠীকে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, আঞ্চলিক নির্বাচনী কর্মকর্তা ইসরাইল হোসেন বক্তব্য দেন।
