আজ বুধবার থেকে শুরু হতে যাওয়া একাদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনেই উঠছে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়াতে সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও ঢাকা-৮ আসনের এমপি রাশেদ খান মেনন এই প্রস্তাবটি সংসদে তুলবেন। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে সংসদের আইন শাখা-২-এ সিদ্ধান্ত-প্রস্তাবটি জমা দিয়েছেন তিনি। রাশেদ খান মেনন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে ঢোকার বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি তরুণ সমাজের দীর্ঘদিনের। তরুণদের এই দাবি যৌক্তিক। সিদ্ধান্ত-প্রস্তাবটি আনার চেষ্টা করছি।’ তিনি সিদ্ধান্ত-প্রস্তাবে লিখেছেন, সংসদের অভিমত এই যে, সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে ঢোকার বয়সসীমা ৩৫ বছর ও অবসর গ্রহণের বয়সসীমা ৬২ বছর করা হোক। এ ছাড়া আমি আরও দুটি সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব আনছি। এগুলো হলোÑ ‘সংসদের অভিমত এই যে, গ্রামীণ ক্ষেতমজুর, নির্মাণকর্মীসহ সকল স্তরের শ্রমজীবী মানুষের জন্য পেনশন স্কিম চালু করা হোক।’ আরেকটি হলোÑ ‘সংসদের অভিমত এই যে, ব্যাংকিং খাতে আর্থিক নৈরাজ্য ও অব্যবস্থাপনা দূরীকরণার্থে উপায় উদ্ভাবন ও সুপারিশ গ্রহণের জন্য ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা হাক।
উল্লেখ্য, সংসদ চলাকালীন বৃহস্পতিবার বেসরকারি দিবস হিসেবে রাখা হয়। এদিন শুধু এমপিদের বিল ও সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব আনা হয়। এজন্য এটিকে সংসদের বেসরকারি দিবস বলা হয়।
সংসদের আইন শাখা-২-এর কর্মকর্তারা জানান, এমপিদের আনা সিদ্ধান্ত-প্রস্তাবে মন্ত্রী একমত না হলে তিনি ব্যাখ্যা করে সেই সিদ্ধান্ত-প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন। আর গ্রহণ করার হলে গ্রহণ করেন। তবে সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানÑ দুটোই হ্যাঁ বা না ভোটে দিয়ে পাস করে নিতে হয়। ফলে এটি এক ধরনের আইনও বলা যায়।
কর্মকর্তারা জানান, স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত সংসদে এমপিদের ভোটে ২৩টি সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব গৃহীত হলেও এগুলো বাস্তবায়ন তেমন হয়নি। বিগত দশম সংসদে চারটি সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব গৃহীত হয়। কিন্তু যেভাবে সিদ্ধান্ত-প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করা হয়, তত গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইন করা বা ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি ১৪৩-এর (২) ধারা অনুযায়ী, গৃহীত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কোনো ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী পরে সংসদে তা জানাবেন। কিন্তু দশম সংসদে চারটি সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব পাস হলেও এ সম্পর্কে মন্ত্রীরা কে কী করেছেন, তা সংসদে জানানো হয়নি।
