জনপ্রিয় অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম। এক যুগের ক্যারিয়ারে অভিনয় করেছেন অনেক দর্শকপ্রিয় নাটকে। তার ঝুলিতে রয়েছে ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘ছুঁয়ে দিলে মন’, ‘আলতাবানু’র মতো প্রশংসনীয় সিনেমা। পেশা জীবনের মতো ব্যক্তিজীবনেও বরাবরই আলোচিত তিনি। বিভিন্ন ইস্যুতে নিজের সোজাসাপ্টা মন্তব্য করার জন্য মিডিয়ায় আলাদা সুনাম রয়েছে তার। এই তারকাকে নিয়ে লিখেছেন মাসিদ রণ
‘আমি অনেক সাধারণ, ভণিতাহীন আর স্পষ্টভাষী। তাই অনেকের অপছন্দের তালিকায় আমার নাম। তবে সত্যি বলতে, ভণিতা ছাড়াই যারা আমাকে আদর করেন, ভালোবাসেন, দোয়া দেন তাদের জন্যই আমার এই পথচলা আজও সুগম। তাদের প্রতি আমার আকণ্ঠ শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা অবিরাম। শেষ পর্যন্ত এই আদরেই থাকতে চাই আর সাধারণই থাকতে চাই।’ কথাগুলো জনপ্রিয় অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মমর ফেইসবুক থেকে নেওয়া। সম্প্রতি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসে এ কথাগুলোই লিখেছেন তিনি। মমকে যারা কাছ থেকে চেনেন তারা সবাই এই পোস্টের মর্মার্থ অনেক আগেই জানেন। কিন্তু এবার তিনি পোস্টের মাধ্যমে ভক্তদেরও জানিয়ে দিলেন ব্যক্তি মম সম্পর্কে। এটি একজন তারকার জন্য অনেক বড় একটি পদক্ষেপ। হলিউড বা বলিউডে এ ধরনের সততাকে বরাবরই বাহবা দেওয়া হয়।
যাই হোক, মম তার নিজস্ব চিন্তাধারা বজায় রেখেই কাজ করছেন গত একযুগ ধরে। শিশু বেলায় নাচে জাতীয় পুরস্কার অর্জন, বড় হয়ে লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন, প্রথম সিনেমা ‘দারুচিনি দ্বীপ’ এই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন সবই খুব সাবলীলভাবে পেয়ে গেছেন তিনি। তাকে কোনোদিন হোঁচট খেয়ে পথ চলতে হয়নি। দর্শকের ভালোবাসা আর নির্মাতাদের আস্থা অর্জন করেছেন সেই শুরু থেকেই। তাই তো অনেকে তাকে ‘বিউটি উইথ ব্রেইন’ বিশেষণ দিয়ে থাকেন। এ বছরও দর্শক জরিপে মেরিল প্রথম আলো পুরস্কারে সেরা টিভি অভিনেত্রী ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পেয়েছেন এই তারকা। তবে পুরস্কারের চেয়ে দর্শকের এই ভালোবাসাকেই বড় মনে করেন তিনি।
মম এখন কাজ করছেন ঈদের নাটকের। আসছে ঈদুল ফিতরে কম করে হলেও তার দুই ডজন নাটক প্রচার হবে। তাই আলাদা করে কোনো নাটকের নাম তিনি বলতে চান না। বললেন, ‘যখন যে কাজটি করি তা ভালো লাগে বলেই করি। আপ্রাণ চেষ্টা থাকে সমস্ত প্রতিবন্ধকতার মাঝেও যেন ভালোকিছু দর্শককে উপহার দিতে পারি। তারমধ্যে কিছু কাজ দর্শকের বেশি ভালো লাগে, কিছু কাজ কম। তাই নিজে থেকে কোনো কাজের কথা বলতে চাই না। দর্শক যেটাকে পছন্দ করবেন, দিনশেষে তো সেটিই সফল বলে গণ্য হবে।’
তবে সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশ হয়েছে মম অভিনীত নতুন একটি ওয়েব সিরিজ। শিহাব শাহীনের পরিচালনায় এই ওয়েব সিরিজটির নাম ‘চেনা পথের অপরিচিতা’। এতে মমর বিপরীতে আছেন জনপ্রিয় অভিনেতা অপূর্ব। আর অভিনয় করেছেন নাঈম, সুষমা সরকার, সাবেরি আলম, আনন্দ খালেদ প্রমুখ। ওয়েব সিরিজটি খুবই সাদামাটা গল্প নিয়ে নির্মিত হলেও গল্পের বুনন, নির্মাণ আর শিল্পীদের সাবলীল অভিনয় দর্শকের নজর কেড়েছে। তাইতো দু-তিন দিনে এই সিরিজের প্রতিটি পর্ব কয়েক লাখ দর্শক পাচ্ছে। এ ওয়েব সিরিজ প্রসঙ্গে মম বলেন, ‘বাস্তব জীবনের খুব কাছের একটি গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘চেনা পথের অপরিচিতা’। এতে আমি একটি পরিবারের বড় মেয়ে। বাবা অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী, ছোট ভাই আর মাকে নিয়ে আমার সংসার। একটি ছোটখাটো চাকরি করি। কিন্তু একটি অসহায় মেয়ের অফিস পলিটিক্সে কীভাবে নাজেহাল হতে হয় সেই বাস্তবতা ফুটে উঠেছে এতে। শুধু অফিসের জটিলতা নয়, পারিবারিক জীবনের টানাপোড়েনও সমান্তরালভাবে দেখা যাচ্ছে সিরিজটিতে। তাই হয়তো দর্শক বেশ সাড়া দিয়েছে।’
ব্যক্তিজীবন নিয়ে যেমন অকপট, তেমনি পেশাজীবনের নানা বিষয়ে বরাবরই সোজাসাপ্টা কথা বলে থাকেন মম। এবার বললেন কাস্টিং সিস্টেম নিয়ে। মমর ভাষ্য, ‘আমাদের দেশে যোগ্যতার ভিত্তিতে কাস্টিং একটু কমই হয়। এ নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই। আমি শুধু সময়ের সঙ্গে আছি। ভালো গল্পের দিকে তাকিয়ে আছি। তিন বছর নাকি চার বছর পর সিনেমা করলাম, এটা বিষয় না। বিষয় হলো, আমি আসলে কী করলাম।’
পাশাপাশি মমর সংযোজন, ‘ক’দিন আগে জয়া আপা (জয়া আহসান) দেবী প্রযোজনা করলেন; সে ছবিতে তিনি নিজেই অভিনয় করেছেন। ওদিকে ফারুকী (মোস্তফা সরয়ার ফারুকী) ভাইয়ের সঙ্গে তিশা (নুসরাত ইমরোজ তিশা) ফিক্সড। আর বাকিরা কে কী করছে, সেটাও তো জানি। তাই দেখা যাচ্ছে, আমি চাইলেই বা কোনো চরিত্রের জন্য মোর ডিজারভারড হলেও, চরিত্রটা আমার কাছে আর আসছে না।’
শুধু তাই নয়, এফডিসি ঘরানা ও আর্ট ঘরানার বিভেদ নিয়েও কথা বলেছেন মম, ‘আমাদের দেশে এফডিসি আর নাটক দুই ধরনের নির্মাতারা দুই ঘরানার শিল্পীর বলয়কে ঘিরে কাজ করে থাকেন। কে কী কাজ করছে, সেটা তো সবাই জানি। চলচ্চিত্রের নতুন যে ইন্ডাস্ট্রিটা তৈরি হচ্ছে, সেখানে কিন্তু নাটকের নির্মাতারই বেশি কাজ করছেন। করপোরেট ওয়ার্ল্ডের লোকজনই কাজ করছেন। তারা আবার রেগুলারও নির্মাণ করছেন না। আবার সবাই কিছু সমস্যার মধ্যেও আছেন।’
এদিকে, বছর দুয়েক আগে মম বলিউডে পা ফেলার ঘোষণা দিলেও ছবিটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি। ফায়সাল সাঈফ নামে এক উঠতি পরিচালকের নাম চূড়ান্ত না হওয়া সেই ছবির কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রে অভিনয়ের কথা জানিয়েছিলেন এ নায়িকা। তার প্রায় বছর দুয়েক পর এ চলচ্চিত্র নিয়ে নিজের সংশয়ের কথা জানালেন তিনি, ‘ছবিটা তখনই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জটিলতার কারণে পিছিয়ে যায়। তারপর আর কাজটা হয়নি। আদৌ হবে কি না তাও জানি না।’
