২০০৭ বিশ্বকাপ দিয়ে নিজেকে চিনিয়েছিলেন মাত্র কৈশোর পেরোনো তামিম ইকবাল। খেলেছেন তিনটি বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডেও তার সাফল্য বলার মতো। কিন্তু পেছনের সবকিছু মাথা থেকে মুছে ফেলেছেন তামিম। ২০১৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ এই ড্যাশিং ব্যাটসম্যান শুরু করবেন শূন্য থেকে।
‘আমাকে শূন্য থেকে শুরু করতে হবে। তাই কী করেছি ইংল্যান্ডের মাটিতে, সেটা নিয়ে আমি খুব বেশি ভাবি না। এটা ইতিহাস হয়ে থাকুক। ভালো করি বা না করি, আমি কখনো পেছনের জিনিস নিয়ে চিন্তা করতে চাই না। আমি যদি বিশ্বকাপে সফল হতে চাই, তাহলে আমাকে প্রচ- কষ্ট করে এবং মাঠে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েই সেটা করতে হবে।’ গতকাল মিরপুরে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ব্যাটিং-ফিল্ডিং সেশন শেষ করে ঘামতে ঘামতেই বলছিলেন তামিম, ‘আমার কাছে মনে হয় যদি আমি এগুলো ভাবি তা আমার কাজে আসবে না। আমি এতটুকু জানি যে, সবকিছু কঠিন হবে। আরও বেশি কঠিন হবে যদি আমি বিশ্বকাপে সফল হতে চাই।’
দর্শনটা পরিষ্কার। ৩০ বছরের তামিম লক্ষ্য নির্ধারণ থেকে দূরে থাকেন। সেটা জীবন থেকে শিখেছেন, ‘কোনো টার্গেট না। কোনো কিছু না। কারণ আমার কাছে মনে হয় যে আমি যখনই কোনো কিছু নিয়ে বেশি ভাবি কোনো না কোনোভাবে সেটা আর অর্জন করতে পারি না।’
জাতীয় দলের ক্যাম্পে এখনো মাহমুদউল্লাহ, তামিম, মুশফিকুর রহিম, রুবেল হোসেন আর মোস্তাফিজুর রহমান। সাকিব আল হাসান বাদে অন্যরা লিগ শেষ করে দুদিন ছুটি পেয়েছেন। পরের দুদিন আবার ক্যাম্প বন্ধ। ২৮ তারিখ তাই সবাইকে একসঙ্গে পাবেন কোচ স্টিভ রোডস। সাকিবের আইপিএল থেকে ২৮ তারিখ দেশে ফেরার কথা।
তামিম ইংল্যান্ডে খেলা দুই টেস্টের দুটিতেই সেঞ্চুরি করেছেন। লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম উঠেছে এক সেঞ্চুরিতে। সাত ওয়ানডেতে ওই মুলুকে রান ৩৫৫। গত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে একমাত্র সেঞ্চুরিটা করেছেন।
আরেকটা প্রসঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ। এক যুগ ধরে তামিম ওপেন করছেন। অন্য প্রান্তে নানা সময় মিলেছে ভিন্ন সঙ্গী। এখন যে সৌম্য সরকার ও লিটন দাস আছেন তারাও জায়গা পুরো পাকা করতে পারেননি। এক দিন আগে সৌম্য লিগে ইতিহাস গড়া ডাবল সেঞ্চুরি করলেন। অপরাজিত ২০৮। তারপরও বলা যায় না বিশ্বকাপে তিনিই হবেন তামিমের ওপেনিং পার্টনার।
এই অনিশ্চয়তা মানসিকভাবে কিছুটা সমস্যা তো তৈরি করেই। তামিম বলছিলেন, ‘পার্টিকুলার ম্যাচে তো এমন কোনো সমস্যা করে না। কিন্তু যখন আপনার একজন নিয়মিত ওপেনিং সঙ্গী থাকবে, তখন যেটা হয়, আমরা দুজনই আমাদের খেলাটাকে ভালো বুঝতে পারি আর কি। অনেক সময় হয়তোবা এমন থাকে যে, আমার টাইমিং ভালো হচ্ছে না। হয়তো আমি মারছি, কিন্তু ফিল্ডারের কাছে চলে যাচ্ছে। তখন অন্যজনের সুযোগ নিতে হয়। একইভাবে ওর সঙ্গে যদি এই জিনিসটা হয়, তবে আমার চান্স নিতে হয়। কেউ জায়গা পাকা করতে না পারলে তাকে সুযোগ নিতে বলা অন্যায়।’ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তার আশা, ‘আই অ্যাম শিওর, দিস ইজ দ্য রাইট টাইম টু শো দ্য ওয়ার্ল্ড হাউ গুড দে আর।’
সৌম্য-লিটন নিশ্চয়ই জানলেন।
বিশ্বকাপ গ্রীষ্মে। চ্যালেঞ্জটা নিচ্ছেন তামিম। বিশেষ করে ঢাকার গরমে কঠোর পরিশ্রম অন্তত শারীরিকভাবে তৈরি করে দিচ্ছে সবাইকে। বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডে ফাইনালে উঠলে পাঁচ ম্যাচ। আর বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে না উঠতে পারলেও আছে নয়টি। তাই তামিম মনে করেন, ‘আয়ারল্যান্ড সফর গুরুত্বপূর্ণ হবে। ওখানে পাঁচটা ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকবে। তবে ওখানেও দুই-একটা ম্যাচ করে (খেলোয়াড়দের) যদি একটু বদল করা হয়, সবাইকে সতেজ রাখতে, সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে।’
