জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বিন্দু ৩৬৫’ নামের একটি পর্যটন প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরুর অনুষ্ঠানে মোবাইল চুরি হয় অভিনেত্রী ও ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) প্রেসিডেন্ট শমী কায়সারের। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের দেহ তল্লাশি করান তিনি। এতে সাংবাদিকরা বিব্রত বোধ করলে দুঃখ প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে পর্যটন প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরুর অনুষ্ঠান চলাকালে মোবাইল চুরি হয়।
অনুষ্ঠানটিতে প্রধান অতিথি তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ তখনো প্রেস ক্লাবের পথে ছিলেন। বিশেষ অতিথি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ বক্তব্য শেষ করে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরই শমী কায়সার চিৎকার করে উঠে বলেন, তার দুটি ফোনই হারিয়ে গেছে। ওই সময় গোটা হলে হৈ-হুল্লোড় শুরু হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে তল্লাশি চালানোর উদ্যোগ নিলে উপস্থিত অনেকেই তার প্রতিবাদ জানান। প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু উপলক্ষে যখন কেক কাটছিলেন উপস্থিত অতিথিরা, ঠিক সেই সময়ই শমীর ফোন দুটি চুরি হয়ে যায়। ক্ষুব্ধ শমী কায়সার তখন অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রত্যেকের পকেটে তল্লাশি চালিয়ে হলেও ফোন দুটি খুঁজে বের করা হবে বলে জানান। তার এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন উপস্থিত সংবাদকর্মীসহ অনেকে। ওই সময় শমীর সঙ্গে তাদের কয়েকজনের বাদানুবাদও হয়। পরে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘বিন্দু ৩৬৫’-এর কর্মকর্তাসহ অন্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তাদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ফুটেজ দেখে ‘ফোন চোর’ শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া দৈনিক মানবকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার মাহমুদ সালেহীন খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানের কথা কী বলব। এইটা একটা ভুয়া অনুষ্ঠান হয়েছে। অনুষ্ঠানের কেক কাটার একটু আগে শমী কায়সার বলছেন, তার দুটি ফোন হারিয়ে ফেলেছেন। পরে আমরা সাংবাদিকরা যারা উপস্থিত ছিলাম সবাই বললাম আপনি চাইলে সন্দেহভাজন যে কাউকে আপনার ব্যক্তিগত সিকিউরিটি দ্বারা চেক করতে পারেন।’
এই সাংবাদিক আরও বলেন, ‘আমাদের কথা মতে, শমী কায়সারের ব্যক্তিগত সিকিউরিটি দ্বারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত একজন ফটো সাংবাদিকের ব্যাগে তল্লাশি চালানো হয়। পরে কিছু না পেয়ে আবার শমী কায়সার নিজেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার ব্যাগে তল্লাশি চালানোর ঘোষণা দেন। তখন সাংবাদিকরা এর প্রতিবাদ জানান।’
এ বিষয়ে ‘বিন্দু ৩৬৫’-এর উদ্যোক্তা সাব্বির আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক একটি ঘটনা। আমার আমন্ত্রণে অতিথিরা এসেছেন, আমি খুব বিব্রত। সাংবাদিক-অতিথি সবার কাছে দুঃখপ্রকাশ করছি। আশা করি সবাই বিষয়টিকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।’
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী জয়া আহসান, সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি প্রমুখ।
