কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুজন মারা গেছেন। রাজধানী ঢাকার তুরাগ এলাকায় র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন আরেকজন।
আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, তুরাগের দিয়াবাড়ী এলাকায় গতকাল ভোররাতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহতের নাম আলম ওরফে গাঁজা আলম (৪৫)। র্যাবের দাবি, তিনি মাদক বিক্রেতা ছিলেন। র্যাব-১-এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কামরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, তাদের একটি টহল দল ভোররাতে তুরাগ থানা এলাকায় টহল দিচ্ছিল। র্যাব সদস্যরা দিয়াবাড়ী এলাকায় গেলে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় মাদক কারবারিরা। আত্মরক্ষার্থে র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থলে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। পরে জানা যায় নিহত ব্যক্তি আলম ওরফে গাঁজা আলম। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা, বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গোলাগুলিতে আশরাফুল ও নুরুল হক নামে দুই র্যাব সদস্য আহত হন। আলমের বিরুদ্ধে মাদক আইনে ১৭টি মামলা আছে বলেও জানান তিনি।
কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, নিহত দিল মোহাম্মদ দিলু (৩৬) টেকনাফ সদর ইউনিয়নের গোদারবিল গ্রামের মৃত মকবুল আহমেদ পুতুর এবং মোস্তাক আহমদ (৩৮) উপজেলার লেঙ্গুর বিল এলাকার মৃত বদিউজ্জামানের ছেলে। পুলিশ বলছে, দিলু ইয়াবা কারবারি এবং মোস্তাক ডাকাত ছিলেন।
টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, গত মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে বহু মামলার পলাতক আসামি ও তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি দিলুকে আটক করে। তার দেওয়া তথ্যে গতকাল ভোররাতে মেরিনড্রাইভ সড়কে একটি পরিত্যক্ত মাছের হ্যাচারির পেছনে অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধারে যায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দিলুর সহযোগী মাদক কারবারিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। গোলাগুলিতে টেকনাফ মডেল থানার এসআই বাবুল, এএসআই সজীব দত্ত ও কনস্টেবল ইব্রাহীম আহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে দিলুর গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ৬টি এলজি, ১৩ রাউন্ড কার্তুজ ও ৭ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ওসি প্রদীপ আরও জানান, গতকাল বেলা ১১টার দিকে পুলিশের একটি দল বহু মামলার পলাতক আসামি তালিকাভুক্ত ডাকাত ও ইয়াবা কারবারি মোস্তাককে আটক করতে লেঙ্গুর বিল পাহাড়ে যায়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ডাকাত দল এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। এতে এসআই সুজিত দে, কনস্টেবল রুমান ও মেহেদী আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশ ও ডাকাতদের মধ্যে ব্যাপক গোলগুলি হয়। একপর্যায়ে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে মোস্তাকের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। সেখান থেকে ৪টি এলজি, ৯ রাউন্ড কার্তুজ ও ৩ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
