নেত্রকোনার দুই যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায়

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ০২:৫৫ এএম

একাত্তরে হত্যা ও গণহত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নেত্রকোনার যুদ্ধাপরাধী হেদায়েত উল্লাহ ওরফে আঞ্জু বিএসসি ও সোহরাব আলী ওরফে সোহরাব ফকিরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গতকাল বুধবার এ রায় দেয়। রায় ঘোষণার সময় সোহরাব আদালতে উপস্থিত থাকলেও আঞ্জু পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আদালতে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার পক্ষে মামলায় শুনানি করেন প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল ও তাপস কান্তি বল। দুই আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আব্দুস শুকুর খান শুনানি করেন। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মোখলেছুর বলেন, ‘আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট। বিশ্বের মানুষ এখন গণহত্যার বিরুদ্ধে অনেক সক্রিয় ও সচেতন। ট্রাইব্যুনাল বলেছে, গণহত্যার মতো ঘটনা যেন আর না ঘটে।’ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে জানিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুস শুকুর খান বলেন, ‘যিনি পলাতক তিনি যদি আদালত ও রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আত্মসমর্পণ করে আপিল করেন, তাহলে আশা করি দুজনেই খালাস পাবেন।’

মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগে আঞ্জুর ভাই এনায়েত উল্লাহ ওরফে মঞ্জুকে আসামি করা হলেও ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি তার মৃত্যু হলে তাকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আঞ্জু ও সোহরাবের বিচার শুরু হয়। বিচারকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২৩ জন সাক্ষ্য দেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামি আঞ্জু, মঞ্জু ও সোহরাব একাত্তরে রাজাকার বাহিনী ও শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় নেত্রকোনার আটপাড়ার মধুয়াখালী, মোবারকপুর ও সুখারী গ্রাম এবং মদন থানার মদন গ্রামে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠন করেন তারা।

তাদের বিরুদ্ধে আনা মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনার ছয়টি অভিযোগের সব ক’টি প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় অভিযোগে আটপাড়ার মোবারকপুরে দুজনকে হত্যা, তৃতীয় অভিযোগে মদনে একজনকে হত্যা ও চতুর্থ অভিযোগে আটপাড়ার সুখারী গ্রামে সাতজনকে হত্যার দায়ে আঞ্জু ও সোহরাবকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

প্রথম অভিযোগে দুই আসামিকে মধুয়াখালীতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের দেশত্যাগে বাধ্য করার দায়ে ১০ বছর, পঞ্চম অভিযোগে মদনে একজনকে অপহরণ ও নির্যাতনের দায়ে ১০ বছর এবং ষষ্ঠ অভিযোগে মদনে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও হিন্দুদের দেশত্যাগে বাধ্য করার অপরাধে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দুই যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায়ের পর নেত্রকোনায় জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারস ফোরামের উদ্যোগে পৌর শহরের বড় বাজারে আলোচনা সভা করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি শামছুজ্জোহার সভাপতিত্বে সভায় পলাতক আসামি হেদায়েত উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানান তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত