দুর্নীতির মামলায় ১৯ বছর পর কারাগারে সার্জেন্ট রফিকুল

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ০৩:০৫ এএম

১৯৯৯ সালের ১ আগস্ট। নড়াইল শহরে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন মোটরসাইকেল চালক শাহিনুর রহমান। তাড়া খেয়ে আশ্রয় নেন নড়াইলে ট্রাফিক বিভাগের কর্তব্যরত সার্জেন্ট রফিকুল ইসলামের কাছে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ছিনতাইকারীর হাত থেকে রক্ষা পেলেও সার্জেন্টের খপ্পরে পড়েন। কাগজপত্র যাচাইয়ের কথা বলে মোটরসাইকেল কব্জায় নেন সার্জেন্ট। কিন্তু হাল ছাড়তে নারাজ মোটরসাইকেল মালিক। আদালতে মামলা করেন মোটরসাইকেল ফিরে পেতে। সেই মামলার পলাতক আসামি প্রাক্তন সার্জেন্ট রফিকুল ইসলাম গতকাল বুধবার যশোর বিশেষ জজ আদালতে (জেলা জজ) আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর আপত্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

আসামি রফিকুল ইসলাম নড়াইল ট্রাফিক বিভাগের সাবেক সার্জেন্ট। তিনি খুলনা শহরের ১০ নম্বর তালতলা মসজিদ রোডের বাসিন্দা। বাদী শাহিনুর রহমানের বাড়ি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার মাহমুদ আলীপুর গ্রামে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সিরাজুল ইসলাম জানান, আসামি পুলিশের সাবেক সার্জেন্ট রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। গতকাল স্পেশাল জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আসামি রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তার কাছে আশ্রয় চেয়ে বাদী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ জন্য তার জামিনে ঘোর আপত্তি জানানো হয়। আদালত আপত্তির বিষয়টি আমলে নিয়ে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শাহিনুর মোটরসাইকেল ফিরে পেতে নড়াইল প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোকে তদন্তের নির্দেশ দেন। ২০০৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জেলা দুর্নীতি দমন কর্মকর্তার নির্দেশে তদন্তভার পান পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তফা। এদিকে মামলা চলাকালে নড়াইল শহর থেকে সেই মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানা পুলিশ। থানা থেকে বাদী মোটরসাইকেলটি ফিরে পান। পরবর্তী সময়ে দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্ত হলে দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক আমিনুর রহমান তদন্তের দায়িত্ব পান। তখন মামলাটি গড়ায় যশোরের আদালতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত