রাহুল কি পারবেন মোদিকে হটাতে

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ০৩:৫৬ এএম

ভারতে গত লোকসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয় হয়েছিল রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসের। এরপর থেকে তিনি ধুঁকতে থাকা দলকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছেন। নির্বাচনে জিততে বিভিন্ন কৌশলও নিয়েছেন। এ দফায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তিনি গদিচ্যুত করতে পারবেন কি না, তা জানতে তার নির্বাচনী এলাকায় ঘুরে দেখেছেন বিবিসির সাংবাদিক গীতা পান্ডে।

বিবিসির অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত সপ্তাহে উত্তরপ্রদেশের আমেথিতে রাহুলের মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় সমর্থকে ভরে গিয়েছিল এলাকাটি। খোলা ট্রাকে বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রকে নিয়ে রাহুলকে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নাড়তে দেখা যায়। জেলা কালেকটরের কার্যালয় পর্যন্ত পুরো তিন কিলোমিটার সড়কে তাদের অভ্যর্থনা জানান দলের  কর্মী-সমর্থকরা। অনেকের হাতে ছিল পতাকা, অনেকে প্রিয়াঙ্কা ও রাহুলের ছবি বহন করেছিলেন। কেউ কেউ তাদের ওপর ফুল ছিটিয়েছেন।

ওই দিন কংগ্রেসপ্রধানকে দেখতে নিজের গ্রাম থেকে ১২৫ কিলোমিটার ভ্রমণ করেছেন মোস্তাকিম আহমেদ নামের একজন। নিজের ১২ বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে তিনি আসেন আমেথিতে। তার ভাষ্য, ‘মোদির দিন শেষ।’ মোস্তাকিমের মতো রাহুলের আরেক ভক্ত আমেথির আনুখেলাল তিওয়ারি। তিনি বলেন, ‘অপেক্ষা করেন, ২৩ মে ভোট গণনা শুরু হলে মোদি ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাবে। আগামী সরকার গঠন করবে কংগ্রেস এবং রাহুল ভাইয়া প্রধানমন্ত্রী হবেন।’

আমেথিতে রাহুলের সমর্থকদের এ ধরনের স্বপ্ন দীর্ঘদিনের। ১৫ বছর আগে রাহুল তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরুর পর থেকেই তারা সে স্বপ্ন বুনে আসছেন। বর্তমানে ৪৮ বছর বয়সী কংগ্রেস সভাপতি আমেথির তিনবারের সাংসদ। এবার চতুর্থবারের মতো তিনি লড়াইয়ে নেমেছেন। এবার আমেথির পাশাপাশি তিনি কেরালার ওয়েনাড়েও লড়ছেন। ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) অভিযোগ করেছে, আমেথিতে তাদের প্রার্থী স্মৃতি ইরানির কাছে হারার ভয়ে কেরালায় গিয়েছেন রাহুল। তবে কংগ্রেস নেতারা বলছেন, রাহুলের প্রার্থিতায় তাদের ভিত্তি মজবুত হবে দক্ষিণে।

বিবিসির প্রতিবেদক ২০০৪, ২০০৯ ও ২০১৪ সালে রাহুলের নির্বাচনী প্রচার কাভার করেছেন। প্রতিবারই তাকে ভোটাররা বলেছেন, তারা এমপি নয়, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করছেন। এবার এই মনোভাব ওয়েনাড়েও কাজ করছে। এর আগে ২০১৩ সালে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে আনা হয় রাহুলকে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ব্যাপকভাবে প্রচার চালান তিনি। কিন্তু লোকসভার ৫৪৫ আসনের মাত্র ৪৪টিতে জয়ী হয়ে সেবার শোচনীয় হার দেখে স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠনটি। এরপর থেকে কোনো কিছুই অনুকূলে যাচ্ছিল না কংগ্রেসের। কয়েকটি রাজ্য নির্বাচনেও দলটির ভরাডুবি হয়। এরপর থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ অনেকেরই সমালোচনায় পড়েন রাহুল।

এভাবে বেশ কিছুদিন চলার পর প্রেক্ষাপট পাল্টাতে থাকে। রাহুল গান্ধী তার ছায়া থেকে বের হতে থাকেন। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারও আরও ভালো হয়। তিনি সরকারের নোট বাতিল, বেকারত্ব সমস্যা, বর্ধিষ্ণু অসহিষ্ণুতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সোচ্চার হন। এসবের ফল তিনি পান গত বছরের ডিসেম্বরে রাজস্থান, ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে দলের বিজয়ের মধ্য দিয়ে।

নির্বাচনের মধ্যেই দেশের আনাচ-কানাচ চষে বেড়াচ্ছেন রাহুল। তিনি দিনে সর্বোচ্চ পাঁচটি সমাবেশে যাচ্ছেন। এসব কারণে রাহুলের সম্ভাবনা দেখছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও ২০১২ সালে তার ওপর বই লেখা আরথি রামাচন্দ্রন। তিনি বলেন, মোদির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অবস্থান নিয়ে প্রচারে নেতৃত্ব দেখিয়েছেন রাহুল। রাফায়েল জঙ্গিবিমান চুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে উত্তর আদায় করেছেন তিনি। একই সঙ্গে মুদ্রা বাতিলের মাধ্যমে জনগণের জীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বলে তুমুল যুক্তি দিয়েছেন তিনি।

ওই সাংবাদিক বলেন, ‘রাজনৈতিক যে অন্তর্দৃষ্টি তিনি দেখাচ্ছেন, রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরুতে তার অনেকটাই অনুপস্থিত ছিল।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত