নির্ঘুম কেরানীগঞ্জের পোশাকপল্লী

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৯, ০২:৪৭ এএম

আসছে ঈদ। কয়েক দিন পরই জমে উঠেবে ঈদের বাজার। তাই শেষ সময়ের পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা। মালিকরাও বসে নেই, চাহিদা অনুযায়ী পোশাকের জোগান দিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা।

কেরানীগঞ্জের আগানগর ও শুভাঢ্যা ইউনিয়নে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় তিন হাজারের বেশি কারখানা। জিন্স, গ্যাবার্ডিন প্যান্ট, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট, গেঞ্জি, থ্রি-পিসসহ সব পোশাকই তৈরি হয় কেরানীগঞ্জের এ গার্মেন্টস পল্লিতে।

বছরজুড়ে পোশাক তৈরি হলেও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কারখানাগুলোর ব্যস্ততা বেড়েছে কয়েকগুণ। সারা বছর যে পোশাক উৎপাদন হয়, তার ৬০ শতাংশই ঈদকে ঘিরে।

পশ্চিম আগানগর নাগর মহল রোডের রুচি টাওয়ারের চতুর্থ তলায় ‘ভাই ভাই গার্মেন্টস’। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক কাজ করে যাচ্ছেন। শ্রমিকরা জানান, রাত দিন তারা কাজ করছেন। মালিক আমির হোসেন জানান, একজন কারিগর গড়ে ১০টা শার্ট বানাতে পারেন। একটি শার্টের তারা ৮০ টাকা মজুরি পান। যা পাইকারি ৪০০-৪৫০ টাকা বিক্রি করা হয়। গত বছর ১৫ হাজার পিস তৈরি করা হলেও এ বার ২০ হাজার শার্টের লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছেন।

আগানগর আলীমুল্লাহ টাওয়ারের পঞ্চম তলায় বয়েস ফ্যাশনের কারখানা। কারখানায় গিয়ে দেখা যায় মালিক সোহেল চৌধুরী এক কারিগর নিয়ে প্যান্ট মজুতের কাজ করছেন। তিনি জানান, গত ঈদে ৪০ হাজার পিস প্যান্ট উৎপাদন করেছেন তারা । এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ৫০ হাজার। এ সব প্যান্ট তারা জিলা পরিষদ মার্কেটে নিজস্ব শো রুমে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা প্রতি পিস পাইকারি দরে বিক্রি করবেন।

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ শেখ কাওসার বলেন, ‘মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষের পোশাকের জোগান দিতে কেরানীগঞ্জ বিখ্যাত। ঈদের বেচাকেনা শবে বরাতের পরই শুরু হয়। তাই কারিগররা এখন শেষ সময়ের পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত। এবারের ঈদে বেচাকেনা ভালো যাবে মনে হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত